শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০১১

শঙ্খচূড়,দাঁড়াশ,চন্দ্রঁবোড়া এরা দেখতে কেমন?

ব্লগ এ অনেকে জানতে চায় কোন সাপ কেমন?আসলে শঙ্খচূড় সাপই হলো কিংকোব্রা।দাঁড়াশ এর ইংরেজি নাম হলো রেট স্নেক।চন্দ্রঁবোড়া হলো রাসেল ভাইপার।কালাচ সাপ হলো কমন ক্রেট।শঙ্খুনি সাপ হলো মাল্টিব্রান্ডেড ক্রেট।কেউটে হলো মনোক্লেড কোবড়া।বাংলাদেশে এইকটি সাপই খুবই বিষাক্ত।দাড়াঁশ নির্বিষ সাপ,যদিও অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভুল করে।

                                                                     শঙ্খচূড়।

                                                                           দাড়াঁশ।

                                                                         চন্দ্রবোড়াঁ।

                                                                     কালাচ।

                                                                 খইয়া গোখরা।

                                                                         কেউটে।

                                                                  বাদামি কালাচ।

                                                                    শঙ্খুনী।

আনাকোন্ডাঃসুন্দর ভয়ঙ্কর রহস্যের জালে ঘেরা।

আনাকোন্ডা বোয়া জাতীয় সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বিষহীন যা প্রধানত দক্ষিন আমেরিকায় পাওয়া যায়।সবুজ ও হলুদ আনাকোন্ডার মধ্যে সবুজটিই আমরা বেশি দেখতে পাই।সবুজ আনাকোন্ডা ১৭ ফুটের বেশি লম্বা এবং এর ওজন ৯৮কেজির বেশি হতে পারে।হলুদ আনাকোন্ডা ব্রাজিল,পেরু,বলিভিয়া ও উত্তর আরজেন্টিনায় সাধারনত পাওয়া যায়,এরা আকারে ছোট।ফুটকি ওলা আনাকোন্ডা পাওয়া যায় সাধারনত উত্তর ব্রাজিল,ফ্রেন্স গায়ানা ও গায়ানাতে,এর আকারে মাঝারি।এছাড়া ত্রিনিদাদেও কিছু তাদের দেখতে পাওয়া যায়। আনাকোন্ডা প্রধানত মাছ,ছোট কুমির,ছাগল,কাপিবোরা ইত্যাদি শিকার করে,সরাসরি গিলে খায়।তাদের মুখের ভিতর খুদ্র খুদ্র ১০০টীর মত দাত আছে।















মুঘল সমাধিঃমধ্যযুগের মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অনন্য এক নিদর্শন।

জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর সাধারণত বাবর নামেই বেশি পরিচিত (ফেব্রুয়ারি ১৪, ১৪৮৩ - ডিসেম্বর ২৬, ১৫৩০) মধ্য এশিয়ার মুসলমান সম্রাট ছিলেন। তিনি ভারত উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট। তিনি তৈমুর লঙ্গ সরাসরি বংশধর ছিলেন এবং তিনি নিজে বিশ্বাস করতেন তিনি মাতার পক্ষ থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন।তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লীর লোদী বংশীয় সুলতান ইব্রাহিম লোদী কে পরাজিত করে এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।বাবর তার জীবনী বাবুর নামাতে বলেছেন কি পরিমান কস্ট করে শায়বানি খানের দ্বারা বিতারিত হিয়ে তিনি ফরগানা ছেড়েছেন।অদ্ভুত যে মৃরতুর আগে তিনি বলে যান তিনি মারা গেলে তাকে যেনো কাবুলেই সমাহিত করা হয়।জন্মস্থান ফরগানা বা দিল্লিতে তিনি সমাহিত হতে চান নি।কাবুল শহরে তার সমাধি বাগ এ বাবুর নামে পরিচিত।পুরো কাবুলে এর চেয়ে সুন্দর জায়গা খুব কমই আছে।মুঘলদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সমাধি হলো হুমায়ুনের।এটা দিল্লীতে।আকবরের সমাধি হলো সেকেন্দ্রাবাদ দুরগ,আগ্রাতে।সম্রাট জাহাংগীরের কবর হলো লাহোরের শারদাবাদে এটিও অনন্য।সম্রাট শাজাহানের কবর তো সবাই জানেন তাজমহলে।মুঘল দের মধ্যে মাত্র দুইজন প্রায় ৫০বছর করে রাজত্ব করেন,একজন আকবর আরেকজন আওরংগজেব।কিন্ত আওরংগজেব এর কবরটি সবচেয়ে সাধারন,এটি মহারাশট্রের খুলদাবাদে।নিচে ছবি দেয়া হলো

                                                                       বাবুরের সমাধি।

                                                                 বাগ ই বাবুর।

                                                                     বাবুরের সমাধি।

                                                                    হুমায়ুনের সমাধি।

                                                           আকবরের সমাধি,সেকেন্দ্রা দুর্গ।

                                                             জাহাংগীরের সমাধি।লাহোর,সারদাবাদ।

                                                             জাহাংগীরের সমাধি।

                                                            শাহজাহানের সমাধি।

                                                        আওরংগজেবের সমাধি।খুলদাবাদ,মহারাস্ট্র।

পাবত্য অঞ্চলের গয়াল,বুনোমোষ,নিলগাইয়ের কিছু ছবি

গতমাসে আমরা কয়েক বন্দ্বু বান্দরবন চিম্বুক হয়ে নিলগিরি যাই।সাতকানিয়া কেরানিরহাট এর পর বিডি আর ক্যাম্প বাইতুল ইজ্জত পেড়িয়ে কিছু দূর গেলে আমরা ২টি গয়াল(পাহাড়ি মোষ) বাধা দেখতে পাই।খুব সুন্দর স্বাস্ত্যবান ২টি গয়াল,কিন্ত গাড়ি রানিং থাকাতে ফটো নিতে পারি নাই।আমার মনে পড়ে বাল্যকালে আমাদের এলাকায় এক লোক গয়াল এনে জবেহ করে মাংসের ভাগ বসায়,আমরাও কিনি।পরে আমি গয়াল বা মোষ সম্পকে জানতে পারি।পৃথিবীতে এর অনেকগুলো জাত আছে।আমাদের পঞ্চগড় বাংলাবান্দায় নিলগাই,আসামের জংগলে বুনো মোষ দেখতে পাওয়া যায়।থাইল্যান্ডে আছে বেটে বেটে পা ওলা কারাবাও,ফিলিপিনে আছে আনোয়া,ইন্দোনেশিয়ায় আছে বান্টেং,আফ্রিকায় আছে মোষ জাতীয় প্রানির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালি কেপ বাফেলো,উত্তর আমেরিকায় আছে বাইসন।সবশেষে আমাদের অতি কাছে নেপালে ও তিব্বতে আছে চমরি গাই বা ইয়াক।শুধুমাত্র কৌতুহল থেকে এ পোস্ট।নিচে কিছু সংগৃহিত ছবি দিলাম।

                                                                    পুরুষ গয়াল।

                                                                          গয়াল।

                                                                  চমরী গাই।

                                                                      নীলগাই।
                                                                          স্ত্রী নীলগাই।

                                                                        আনোয়া।

                                                                       বানটেং।

                                                                           বানটেং।

                                                                        কারাবাউ।

                                                                   এলবিনো কারাবাউ।

                                                                     কেপ বাফেলো।

                                                                          বাইসন।

বিলুপ্ত হওয়ার পথে যেসব প্রানিঃবনরুই,বাঁগডাশ,বেজি,ভোঁদোড়(ছবি ব্লগ)

বাংলাদেশে জীববৈচিত্রগত যেসব পরিবরতন গত দুই দশকে দেখা যায়,তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের বেশ পরিচিত কিছু প্রানির প্রায় বিলুপ্তি।যেমনঃবনরুই,বাঁগডাশ,বেজি,ভোঁদর,গন্ধগোকুল,সজারু,মেছোবাঘ ও মেঘাবাঘ এগুলো এখন আর দেখা যায় না।অথচ সুদুর অতীতকাল থেকে এরা এ দেশের বাস্তু চক্রের এক অচ্ছেদ্য অংশ। বাস্তু চক্রের এরকম এক একটি স্তরের বিলোপ সাধন পরিবেশগত বিপরজয়ের এক ভয়াল চিত্র।বাস্তবে আমি নিজে ২০-২২বছর আগেও বনরুই,বাঁগডাশ,বেজি,ভোঁদর ও সজারু দেখেছি।কিন্তু এখন মনে হয় চিরিয়াখানাতেও এগুলো নেই। তেমনি মেছোবাঘ ও মেঘাবাঘ বা লামচিতা ও এখন আর দেখা যায় না।শুনেছি শ্রীমঙ্গলের সীতেশ বাবুর কাছে এ দুটি জীবিত প্রানি আছে।অথচ সিলেট,শ্রীমংগল ও মৌলবিবাজারের বনে এদের অবাধ যাতায়াত ছিল।মেঘাবাঘ ইদানিং সুমাত্রা ও বোরনিওতে নাকি কিছু দেখা গেছে।যেসব প্রানি এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এদের প্রতি আমার দুরবলতা আছে,ভবিষ্যতে এরা হয়তো শুধু ছবিতেই থাকবে।আর যারা গত ২০-২২বছরের মধ্যে জন্মেছে,আমার ধারনা তারা এসব প্রানির অনেক গুলোর শুধু নামই শুনেছে,ছবি দেখেনি।তাই ব্লগে কিছু ছবি দিলামঃ

                                                                       বনরুই।

                                                                    বাঘডাশ।

                                                                         গন্ধগোকুল।

                                                                লামচিতা বা মেঘাবাঘ।

                                                               লামচিতা বা মেঘাবাঘ।
                                                                  মেছোবাঘ।

                                                                       বেজি।

                                                                       গেছো গন্ধগোকুল।

                                                                        বনরুই।

                                                                      সজারু।

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১১

আল্পস এ উদ্বার হওয়া ৫৩০০ বছর আগের বরফ মানবের মৃতদেহ ও থ্রিডি ইমেজ

সম্প্রতি ডাচ শিল্পীরা ৫৩০০ বছর আগের মৃতদেহের(যা পাওয়া যায় ইতালিয়ান আল্পস এ)থ্রিডি ইমেজ তৈরী করেন।দীঘদিন হিমবাহের নিচে চাপা থাকায় দেহটি খুব ভালভাবে সংরক্ষিত ছিল।জিন ও ডি এন এ বিশ্লেষনের পর জানা যায় মৃতদেহটির চোখের রঙ ছিল বাদামি।এটিই এখন পযন্ত বিংশ শতাব্দিতে আল্পসে পাওয়া প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষন করা সবচেয়ে ভাল মমি।তারা এটির একটি নাম দেয়,অটযী ২০।কারন আল্পসের অটযাল অঞ্চলে এটি পাওয়া যায়।সাউথ টাইরোল প্রত্নতাত্তিক যাদুঘরে,বোলজানো,ইতালিতে এটি প্রদরশিত হবে মারচ২০১১ থেকে জানুয়ারি২০১২ পযন্ত।এটি আবিস্কারের ইতিহাস আজ থেকে ২০ বছর আগের।দুজন পরবত অভিযাত্রি ১৯৯১ সালে মৃতদেহটি খুজে পায়।৪দিন পর তদন্ত দল আসে মৃতদেহটির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানার জন্য। তদন্ত দল মৃতদেহটি ইন্সব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন্সিক বিভাগে নিয়ে আসে। ফরেন্সিক বিভাগ নানা পরিক্ষার পর বিস্মিত হয়ে আবিস্কার করে এটি একটি ভালভাবে সংরক্ষিত হয়া মমি।যদিও দেহটির চুল,নখ,বাহিরের ত্বক তেমন অবশিস্ট ছিলনা,তথাপি তা ছিল ভালভাবে সংরক্ষিত।সিটি স্কান,জিন ও ডিএনএ বিশ্লেষনের পর বিজ্ঞানিরা তার দেহের নমুনা স্বরুপ দাত,হাড়,কোষ ও পরিপাকতন্ত্রের কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন।তাতে তারা জানতে পারে মৃতদেহটির বয়স ছিল ৪৬,উচ্চতা ৫ফুট২ইঞ্চি,ওজন৫০কেজি এবং সে কৃমি দ্বারা আক্রান্ত।তার শেষ খানা ছিল হরিনের মাংস ও রুটি।তার পিঠে,হাটুতে পায়ের গোড়ালিতে প্রায় ৫৭টি ট্যাটু ছিল।পুনাঙ্গ সিটি স্কান এর পর জানা যায় ,সে তীরবিদ্ব হয়ে মারা যায়।ধারনা করা হয় সে তার গ্রামের একজন গুরুত্বপুন্য লোক ছিল।কোন এক তরুন শিকারি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আসে।মৃতদেহের কাছে প্রাপ্ত তামার কুঠার এর আঘাতে,(সে নিজে ছিল পাথরের কুঠারবাহি)সে নিহত হয় তরুন যোদ্বার হাতে।ব্লগে তার মমিকৃত দেহ,নিহত হয়ে পড়ে যাওয়ার কাল্পনিক ছবি ও সম্প্রতি পুনরুদ্বার করা থ্রিডি ইমেজ দেওয়া হলো।


                                                        থ্রি ডি ইমেজ দিয়ে তৈরীর পর

জীবন্ত ফসিল শিলাকান্ত মাছঃডাইনোসর যুগের জীবিত প্রানী।






এটি এমন ঘটনা নয় যে,জীবিত ফসিল প্রতিদিন জেলেদের জালে ধরা পরে।কিন্তু এমনটিই ঘটেছিল ১৯৩৮সালে,যখন সাউথ আফ্রিকান যাদুঘরের কিউরেটর কোরটনি ল্যাটিমার প্রানিটির নমুনা পেলেন।তিনি এটিকে লিপিবদ্ব করলেন এভাবে,ভারি অদ্ভুত ধরনের মোটা আঁশ,অস্বাভাবিক পাখা ফুসফুস দেহের উপরিভাগে,আর মোটামুটি আনাটমিক্যালি ভিতরে ভিতরে সরবপরি এক আকরষন করা মাছ।সরলভাবে বলতে গেলে তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না তিনি শিলাকান্ত নামে ডাইনোসর যুগের একমাত্র জীবিত জীবকে আবিস্কার করলেন।যা জীবিত ফসিল নামে পরিচিত।যে তার স্তরের ও যুগের প্রানিদের থেকে এখন পযন্ত বেশিদিন বেঁচে প্রানি,সমুদ্রএর গভীরে নিরুপদ্রবভাবে ও অসনাত্ত হয়ে অনন্তকাল ধরে বিচরন করে বেড়াচ্ছে।প্রথম খোজ পাওয়ার পর থেকে ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিলাকান্ত বা ল্যাটিমারিয়া চালুমনেই সীমিত আকারে পাওয়া যায়।কেউ জানেনা ঠিক কতগুলো শিলাকান্ত ভারত মহাসাগরে আছে,কারন এরা প্রায় বিরল।সমুদ্রের অতি গভীরে এরা বিচরন করে বিধায়,কেবলমাত্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল ক্যামেরা দ্বারা এদের ফটো পাওয়া যায়।২০০০ সালে এদের ছবি পাওয়া যায়,আর মাঝখানে অনেকদিন পর ২০১০ সালে আবার ছবি পাওয়া যায়।
আরেকবার এটির কিছু গুরুত্বপুর্ন বৈশিস্ট গুলো বলি-সিলাকান্থ লাংফিশ ( ফুসফুস সহ মাছ) এবং চতুস্পদী প্রানীর সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি অতি প্রাচীন মাছ। এর পাখনা গুলো চতুস্পদী প্রানীদের পূর্ববর্তী পর্যায়ের মতো। বর্তমানে মাত্র দুই প্রজাতির সিলাকান্থ পাওয়া গেছে। এদের সাধারনত দেখা পাওয়া যায়না।সিলাকান্থের আরও কয়েকটি ইউনিক বৈশিষ্ঠ্য আছে। যেমন:
১) একমাত্র মাছ যার লেজের শেষপ্রান্তে আরেকটা ছোট বাড়তি লেজের অংশ বা লোব আছে।
২) ডিম পাড়ে না। পূর্ন বয়স্ক বাচ্চা প্রসব করে।
৩) সাঁতার কাটার সময় চতুস্পদী প্রাণীদের মত ডান ডরসাল ফিন আর বাম রেকটোরাল ফিন একসাথে মুভ করে। আবার বাম ডরসাল ফিন আর ডান রেকটোরাল ফিন একসাথে মুভ করে।







সম্রাট আকবর ও মুসলমানী প্রসঙ্গ।

ইতিহাসের এইদিনে এই ভ্যালেন্টাইন ডে তে ১৪ ফেব্রুয়ারী,১৫৫৬ খ্রীঃ সম্রাট আকবর ১৪ বছর বয়সে দিল্লীর সিংহাসনে আসীন হন। ভ্যালেন্টাইন ডে তে সম্র...