শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রাজিব গান্ধী শ্রীপেরাম্বুদুরেতে।

রাজিব গান্ধীর আমলের কথা,তার পররাষ্ট্র নীতির কথা একটু মনে করতে পারলে দেখবেন অন্য অনেকের চেয়ে রাজিব অনেক অসাম্প্রদায়িক ছিলেন।মা ইন্ধিরা গান্ধীর মতোই।তাদের দুজনের সময়েওই মুসলমান আর শিখেরা অনেক ভাইটাল পোস্টে ছিলো।সোজা কথায় এখনকার কট্টর হিন্দুত্ববাদ অন্তত তাদের এজেন্ডা ছিলো না।রাজিব তার সময়ে তার প্রতিবেশীদের সাথে খুব একটা জটিল পরিস্থিতিতে শুধু শুধু জড়াতে আগ্রহী ছিলেন না।যার ফলে অন্য অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে শ্রীলংকার তামিল সমস্যার একটা অগ্রসরমান প্রক্রিয়া তিনি চালু করেন।১৯৮৭ সালে তিনি ,শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট জয়াবর্ধনে আর এলটিটিই নেতা প্রভাকরনের মধ্যে একটা ত্রিপক্ষীয় শান্তির চেস্টা চালান।কিন্তু প্রভাকরন প্রথমে রাজি বলে জানিয়েও বিট্রে করেন বরাবরের ন্যায়।
এলটিটিই এর বিরোধিতা করে রাজিবের জন্য সুইসাইড স্কোয়াড প্রস্তুত করে।আসলে ইন্ধিরার হত্যাকান্ডের পর ধারনা করা হতো কোন এক শিখ খালসাপন্থী কট্টর গ্রুপই গান্ধী পরিবারের জন্য আবার হুমকি হয়ে উঠতে পারে।কিন্তু এটা ধারনার অতীত ছিলো যে,দক্ষিনে কোন উগ্র তামিল গ্রুপের হাতে গান্ধী পরিবারের কারো জীবনহানী ঘটবে।অথচ তাই ঘটেছিলো।আর এটার পরিণাম ভুগতে হয় তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরনকে ২০০৯ সালে।শ্রীলংকা সে বছর প্রভাকরন আর এলটিটিইকে সম্পুর্ন নিশ্চিহ্ন করে দিলেও ভারতে সেসময়ের কংগ্রেস সরকার তাদের টিকিয়ে রাখতে তেমন জোরালো ভূমিকা নেয়নি।বা নিতে পারেনি।
২১ মে,১৯৯১ সাল।রাজিব সমগ্র অন্ধ্র ,হায়দ্রাবাদ আর বিশাখাপট্টনম এ নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে ক্লান্ত ,ঘর্মাক্ত শরীরে মাদ্রাজের শ্রীপেরাম্বুদুরেতে আসেন।সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী তার মায়ের আমলের অত্যান্ত বিশ্বস্ত নেত্রী মারগাথান চন্দ্রশেখর।সেবার তার জয় প্রায় নিশ্চিত।জনসভার স্থলে বিশাল স্টেজে মিজ চন্দ্রশেখর,জি কে মুপানার ও তার সাথে অন্যান্য নেতাকর্মীরা।এসময় আবেদন এলো রাজিবকে তামিল সংস্কৃতিতে অভ্যর্থনা জানানো হবে।তাকে কবিতা আবৃতিসহ জয়মাল্য পড়ানো হবে।রাজিব অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলেন।কিন্তু তার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত রক্ষীরা জানালেন, ঘটনাস্থলে অপ্রত্যাশিত ভীড় দেখা যাচ্ছে।কিন্তু রাজিব তার জন্য পাতা লাল গালিচা দিয়ে হেটে পুষ্পমাল্য দেয়ার জন্য অপেক্ষমাণ যুবতিদের দিকে আগালেন।কবিতা আবৃত্তি করছে  সুইসাইড স্কোয়াডের কোকিলা ,আত্মঘাতি দলের ধানু নামে এক যুবতী বড় পুষ্পমাল্য নিয়ে রাজিবের অপেক্ষায় ছিলেন।তাকে সহায়তাকারী নলিনি সহ অন্যরা ।এসময়ই রাজিব স্মিত হেসে তার রক্ষী কনস্টেবল অনুসুয়ার দিকে তাকালেন।হ্যা, তার কাছে হঠাত করে কেনো যেনো পরিস্থিতিটা ভালো লাগছে না।অনুসুয়া ধানুদের এতো কাছে ভীড় করে দাড়াতে নিষেধ করলেন।তখনিই ধানু একেবারে রাজিবের পায়ে এসে প্রনাম করার ভংগি করেই আরডিএক্স ডেটোনেটর প্রেস করে দেন।রাজিব ,অনুসুয়া,ধানু ,ক্যামেরাম্যান সবাই মুহুর্তেই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।রাত তখন সাড়ে নয়টার কিছু বেশী।
সোনিয়া আজকে দশটা বাজার পরও ঘুমাতে পারছেন না।সে নিয়মিত তাড়াতাড়ি বিছানায় যায়।এদিকে আজকের কংগ্রেসী অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বারামের স্ত্রী নলিনীর কাছেই দিল্লীতে সবার আগে ফোন আসে যে, রাজিব আর নেই।তিনি রাজিবের এপিএস ভি কে জর্জ কে ব্যাপারটা জানান।এপিএস হতভম্ব, সে চিৎকার করে বার বার জানতে চায়, সঠিক খবর জানান দ্রুত ।তাকে জানানো হয়,এটাই অন্তিম সংবাদ।সোনিয়াকে তিনি যেনো জানানোর প্রস্তুতি নেন।
সোনিয়া টেলিফোনের শব্দ শুনে রাজিবের বৈঠকখানায় আসেন।হতভম্ব এপিএস জানান(সে কান্নারত), মাদ্রাজ থেকে ফোন আসছে ম্যাডাম।ওইখানে একটা বোমা বিষ্ফোরন ঘটেছে।সোনিয়া স্তব্দ হয়ে যান।শুধু এটুকুই সে বলে- রাজিব কি মারা গিয়েছে?
মা নিহত হওয়ার ৭ বছর পর রাজিব নিহত হন।

প্রস্তরযুগ ও ফেসবুক।

প্রস্তরযুগে ফেসবুক না থাকাতে মানুষ স্ট্যাটাসগুলো গুহার দেয়ালে দিতো।সেখান থেকেই তখনকার মানুষের মধ্যে কিছু লোক যে বৃষ্টি-বাদলার দিনে গুহায় বসে কয়দিন আগের জীবজন্তুর শিকারের দৃশ্য দেয়ালে আকতো,তা বোঝা যায়।গবেষনায় দেখা গেছে এরাই ফেসবুকের আদিম ব্যবহারকারী।তখন স্টাটাসে লাইক পড়তো ক্লিকে না, সবাই স্টাটাসের ছবি দেখে হাতের অস্ত্র বা পাথর উচিয়ে ছাতাপড়া দাঁত দেখিয়ে উল্লাস করতো। আর ডিসলাইক বাটন ফেসবুকে এখন না থাকলেও তখন তা বিপদজনক ভাবে ছিলো। আঁকা ছবিতে নিজেদের কেউ বাদ পড়েছে বুঝতে পারলেই ফের ছাতাপড়া দাঁত খিচিয়ে এ ওর মাথা ফাটিয়ে দিতো।স্টোনবুক খুব কঠিন ব্যাপার ছিলো।

বর্মী সুন্দরী ও বশর কাকা।

সত্তর আশির দশকে আমাদের প্রবাসীরা দুবাই আবুধাবী(চট্টগ্রামের অনেকে আবুদুবাই বলতো) তথা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আর কিছু না আনুক ,একটা টুইন ওয়ান আনতোই।একটু সম্পন্ন প্রবাসীরা আনতো ভিসিয়ার আর রঙ্গীন টিভি।তেমনি ব্রিটিশ আমলে আমাদের এই অঞ্চলের লোকেরা প্রবাসে তথা রেঙ্গুন গেলে প্রায় অবধারিতভাবে একটা বার্মাইয়া বৌ আনতো।কারন তখন টুইন ওয়ান,ভিসিয়ার ,টিভি এগুলা ছিলো না।এবং আমার ধারনা ,মধ্যযুগে এই জিনিসগুলা পর্যাপ্ত থাকলে তখনকার লোকেরা কিংবা আকবর বাদশাও এতোবড় হারেম মেইন্টেইন করতো না।
আমাদের এলাকার প্রবীন বশর কাকা যৌবনে রেঙ্গুন গিয়েছিলেন।উনি রেঙ্গুন সুন্দরীদের রিভিউ এখনো দিতে কম দেন না।উনার মতে ওদের সেবার তুলনায় তুলনীয় কিছু এই দুনিয়ায় নেই।উনি উনার স্ত্রীর সেবা যে ওদের তুলনায় কতো নিন্মমানের তা বলে উঠে শেষ করতে পারেন না।কথায় কথায় তর্ক করা, ঝাড়ু হাতে নিয়ে ফেলা এগুলা রেঙ্গুনের ওরা কোনদিন করে নাই।উনার আপসোস দেখে দুনিয়ার উপর যে কারো বিরাগ এসে যাবে।উনি বলেন,একবার উনার জ্বর হয়েছিলো প্রানঘাতী।দুই রেঙ্গুন সুন্দরী উনাকে যেই আদর যত্ন স্নেহে বাচিয়ে তুলেছিলেন,তার বর্ননা শুনলে বেহেস্তের বিবরনীও অনাকর্ষনীয় মনে হবে।
উনি সবশেষে রেঙ্গুন সুন্দরীদের সেবাকে দুই লাইনের কবিতা দিয়ে প্রকাশ করেছেন।রেঙ্গুন সুন্দরীদের সেবা নাকি যেই ক্লাসের তা হলো-
"ছাইয়া পিডা মধু দি" ( মানে চট্টগ্রামের ছাইয়া পিঠা মধু দিয়ে খেলে যেমন স্বর্গীয় স্বাদ তেমন)
আর চাচীর তথা বাঙ্গালী রমনীর সেবাকে কবিতার ভাষায় বলেছেন-
"পান্তা ভাত কদু দি " (মানে পান্তা ভাত কদু দিয়ে খেলে যেমন বিস্বাদ তেমন)
তাহলে কবিতাটা দাড়ালো-
ছাইয়া পিডা মধু দি,
পান্তা ভাত কদু দি।

বৃষ্টিতে একদিন।

আজকে চট্টগ্রাম আক্ষরিক অর্থেই ডুবে গেছে।এ পর্যন্ত এটা এই সিজনের রেকর্ড বৃষ্টিপাত। সারা নগরী বিভিন্নদিকে জলমগ্ন হয়ে কোলাপ্স হয়ে গেছে।রাস্তায় যান-বাহনের অপ্রতুলতা সমস্যাকে আরো প্রবলেম করে ফেলছে।আমি ঘন্টাখানেক দাড়িয়েও কিছু ম্যানেজ করতে পারি নাই।শেষে দেখি চট্টগ্রাম বিশ্ব-বিদ্যালয়ের এক সম্পুর্ন খালি বাস যাচ্ছে।আমি লাফ মেরে উঠে পড়ি।হেল্পারসহ ড্রাইভার হৈহৈ করে উঠে, আমি এটাতে কেন উঠছি জানতে চায়।
আমি বলছি, দেখেন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ব-বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিছিলাম, কিন্তু টিকি নাই।এখন কি নেমে যাবো?দুজনেই সহাস্যে জানালো, না থাকেন, জিইসি পর্যন্ত যেতে পারবেন।

মগ ,বর্মী ও শায়েস্তা খাঁ

মধ্যযুগ থেকেই মগ আর বর্মীদের প্রতি বাংগালীর একধরনের ভীতি কাজ করতো।এরা পর্তুগীজ হার্মাদদের সাথে মিলে সমগ্র বাংলার দক্ষিন উপকুলে প্রচন্ড তান্ডব চালিয়েছে।হাটবারে বা কোন বিবাহ উতসব বা কোন অন্য উতসবের দিন এরা সারং(মগদের ব্যবহৃত একপ্রকার নৌযান) নিয়ে আলগোছে গ্রামে ভিড়ে যেতো।তারপর শিশু,মহিলা,যুবক এদের পাইকারী হারে নিয়ে যেতো।বৃদ্ধরা দাস হিসেবে মুল্যহীন বিধায় রেহাই পেতো।এরপর এদের বন্দী করে চট্টগ্রামের পটিয়ার এখনের কেইপিজেড যেখানে সেই দেয়াং পাহাড়ের দূর্গে নিয়ে আসতো,তাদের ভাষায় ডিয়াঙ্গা।সেখান থেকে বেচে যাওয়া বন্দীদের শ্রীলংকা,এডেন সহ আফ্রিকার মোম্বাসা বা জাঞ্জিবারের দাস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হতো।
এভাবে মগেরা আজকের মতোই প্রচন্ড হিংস্রতা দেখাতো যাতে কেউ তাদের দেশের দিকে হাত না বাড়ায় তার জন্য।অনেকটা প্রিএম্পটিভ এটাক।তারাও বাঙ্গালীকে ভয় পেতো।দাস ব্যবসাও হলো,ডর দেখানোও হলো।এভাবে তারা নিজেরা তাদের সীমানা বিপদমুক্ত রেখেছিলো।কিন্তু ব্রিটিসরা বার্মা জয় করার পর আমাদের এই অঞ্চলের লোক জীবিকার টানে বার্মা যাওয়া শুরু করে।আগে মগেরা যেই ভয়ে বহিরাগতদের আসা বন্ধ রেখেছিলো,ব্রিটিসদের শাসনের সুবাদে উপমহাদেশের লোক সেখানে যেয়ে ভীড় করে।মগ আর বর্মীরা উপমহাদেশের লোকদের আরেকটি কারনে চরম ঘৃনা করতো,সেটা এই উপমহাদেশের লোকদের উচ্চ ফলনশীল জন্মহার আর হাতে টাকা।বর্মী মহিলারা এই আকর্ষন এড়াতে পারতো না।কি এক অদ্ভুত কারনে, মগ বা বর্মী পুরুষেরা মহিলাদের থেকে বেশ অলস।তার পরে যেটুকু সময় কাজ করে তার বেশীর ভাগ সময় আবার মদ বা অন্যান্য মাদকে আছন্ন থাকতো ।ফলে তাদের জন্মহার কম ছিলো।বাংগালীর সাথে থেকে মগ বা বর্মী মহিলারাও অনেক হেলদি একটা যৌনসম্পর্ক বজায় রাখা শিখেছিলো।বাংগালী তাদের বর্মী মহিলাদের গালে মাটি মেখে রাখা, পান খেয়ে দাত চেদেরভেদের করে রাখা এগুলা থেকে দূরে রেখেছিলো।এভাবে বাংগালীর পেন্ড্রাইভের সফল ব্যবহার,যেখানে সেখানে সফটওয়ার বিতরন এগুলা বরং মগ বা বর্মীদের থেকে তাদের শ্রেষ্টতায় এগিয়ে রেখেছিলো। ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত এটা নিয়ে ঝামেলা হয় নাই।এরপর এই ঝামেলা শুরু।
ইতিহাসে দেখা যায় ,একবারই উপমহাদেশের লোকেরা মগ বা রাখাইনের দস্যুদের সেরকম চিকিতসা দিয়েছিলো।সেটাই শেষ।১৬৬৪ সালে শিবাজি দক্ষিনাত্য সহ কয়েকটি জায়গায় মোঘলদের হারিয়ে দেন।সেবছরের জানুয়ারীতেই শিবাজি মুঘলদের প্রধান বন্দর সুরাট একসপ্তাহ ধরে লুট করে।ফলে সম্রাট আওরংজেব দক্ষিনাত্যের সুবাদার শায়েস্তা খাঁ কে বরখাস্ত করেন এবং শাস্তি স্বরুপ তাকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান।শায়েস্তা খাঁ ছিলেন সম্রাটের আপন মামা, মমতাজ মহলের ভাই।মামা বাংলা যাবার আগে ভাগ্নের সাথে একবার দেখা করে যাবার অনুমতি চান।এতে ভাগ্নে আরো ক্ষিপ্ত হয়।জানানো হয়, মামা যেনো তার বাহিনী নিয়ে আগ্রার অনেক দক্ষিন দিয়ে অতিক্রম করেন।দেখা করার প্রয়োজন নাই।শায়েস্তা খাঁ বিশেষ অপমানিত হন।অপমানের পুরো ঝাল মিটান চট্টগ্রামে এসে বিশাল এক নৌবহর নিয়ে মগ-পর্তুগীজদের যৌথবাহিনীকে আক্রমন করে।নিজে আর পুত্র বুজুর্গ উমিদ খাঁ কে নিয়ে তিনি মগদের চরম শাস্তি দেন।তাদের একেবারে নাফ নদী পার করিয়ে দিয়ে আসেন।মগেরা আর কখনোই চট্টগ্রামের দখল নিতে পারে নাই।বাংলা ভাষায় শায়েস্তা করা বা শাস্তি দেয়া কথাটা কিন্তু এসেছে শায়েস্তা খানের নাম থেকে।তাহলে বুঝে দেখেন ,কি শাস্তি তিনি মগেদের দিয়েছিলেন।এই শায়েস্তা খানের মেয়ে পরীবিবির কবর ঢাকার লালবাগ কিল্লায়।এই শায়েস্তা খানের আমলেই চাল ডাল এর দাম কিংবদন্তীতুল্য ছিলো।
মগ ,বর্মীদের অত্যাচার ,চাল-ডালের দুর্মুল্যের বাজারে আজকে আমার শায়েস্তা খাঁ এর কথা মনে পড়তেছে।

প্লেজারিজম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউনিভার্সিটি অভ শিকাগো প্রেস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষকের পিএইচডির গবেষণা সন্দর্ভকে প্লেগিয়ারিজম বা কূম্ভীলকবৃত্তি বা রচনাচুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে।তারা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে,পত্রিকায় তা জানলাম।
এই ৫ জনের একজন সাংবাদিক সামিয়া রহমান।আমি এদের কাউকে দোষ দিই না।এটাই হওয়ার কথা ছিলো।যে দেশে বাটপারি,ইতরামি,নির্লজ্জতা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত বলে গন্য হয় ,সেখানে কে কষ্ট করে পড়ে গবেষনা করবে।সেইদেশে এইভাবেই এ ওর লেখা মেরে দেবে, ডক্টরেট পাওয়ার জন্য হেন কোন কাজ নেই করবে।একটু স্মরনে আনুন,এখানে মেডিকেল ভর্তির মতো গুরুতর ব্যাপারের প্রশ্ন আউট হয়।এই একটিই উদাহরন দিলাম।
এরা ঢাকা ভার্সিটিকে ওমরগনি এমইএস কলেজ বা পাহাড়তলী কলেজ বানিয়ে ফেলেছে।ব্যাপারটা এখানে খুলে না বললে ক্লিয়ার হবে না।চট্টগ্রামে মেধাবী ,মাঝারি মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীরা মোটামুটি চট্টগ্রাম কলেজ,মোহাসিন কলেজ ,সিটি কলেজ ,কমার্স কলেজ,মহিলা কলেজ এগুলোতেই টিকে যায়।আর বাকি বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীকে এই এমইএস কলেজ ,পাহাড়তলী কলেজ নিয়ে নিতো।ঐখানে সেই ৯০ এর দশকে পোলাপাইনের পরীক্ষার সময় খোদ অভিভাবক, শিক্ষক সবাই পরীক্ষায় অংশ নিতো ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে।অভিভাবকেরা বা ছাত্র-ছাত্রীর ভাই-বোনেরা ,প্রেমিক-প্রেমিকারা দোতালা তিনতলার পরীক্ষার হল পাইপ দিয়ে বেয়ে উঠে জানালা দিয়ে নকল সাপ্লাই দিতো।
সেই আমলে এটাকে নীতি-নৈতিকতার হ্যাম্পার হচ্ছে বলে আদৌ মনে করা হতো না।বরং পরিবারের অভিভাবকেরা সবাই মিলে কেমন একটা পাশ দিলাম রে আব্বু-মামনি ,এমনটাই ভেবে গর্বিত হতেন।
খুব একটা আনন্দের সময় ছিলো।সবাই মিলে একটা ইংরেজী অংকের মাস্টার ভাড়া করে নিয়ে যেতো।পরীক্ষার হলে প্রশ্ন বিলি করার দুই মিনিটের মাথায় প্রশ্ন ভাড়াটে মাস্টারের হাতে এসে যেতো।সে সমাধান দিয়ে দেবার সাথে সাথে রিলে রেসের মতো অভিভাবক ,ভাই-বোন,প্রেমিক-প্রেমিকারা দৌড়ে পাইপ বেয়ে ,অস্থায়ী মই বেয়ে এই জীয়নকাটি পরীক্ষার্থীর হাতে দিয়ে আসতো।সে তখন ভাবতেছিলো,সবার বাপ-ভাই কি তাড়াতাড়ি এসে সমাধান দিয়ে গেছে আর আমাদের বালাদুল আমীনগুলা এখনো আসে নাই।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরীক্ষার কেন্দ্রগুলা ছিলো রাউজান,পটিয়া রাহাত আলী স্কুল,কুমিল্লার চিওড়া স্কুল।অভিভাবকেরা এসব স্কুলের প্রতি ভীষন দূর্বল ছিলেন।ঐখানে মেজিস্ট্রেট বেধে রাখা হতো।এসব ব্যাপারে ওইখানের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাই একমত ছিলো।এতো কষ্টের পরীক্ষা একজন উটকো লোক এসে বরবাদ করে দিতে পারে না।
তাও মাঝে মাঝে মেজিস্ট্রেট রোকন উদ দ্দৌলার মতো কিছু মানুষ তখনো ছিলো।এরকম এক মেজিস্ট্রেট একবার রাউজানে পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢুকে এমন অরাজক পরিস্থিতি দেখে সমানে এক্সপেল করা শুরু করলেন।অল্পক্ষনের ভেতর শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকেরা সম্পুর্ন একমত হয়ে গেলেন যে ফুলের বাগানে এ কোন বান্দর এসে উপস্থিত।সবাই মিলে মেজিস্ট্রেটকে দৌড় লাগালেন।তা প্রায় হাজার খানেক সচেতন নৈতিকতায় টইটম্বুর করা জনগন।মেজিস্ট্রেট এর দেহরক্ষী পুলিশ প্রথমেই ভাগলো।মেজিস্ট্রেট অনেকক্ষন জান-জীবন নিয়ে দৌড়ালেন।শেষে না পেরে আল্লাহ-তায়ালার কাছে জীবন ভিক্ষা চাইলেন।তার দোয়া কবুল হলো। হঠাত তার নিকটেই একটা মসজিদ যেনো মাটি ফুড়ে দৃশ্যমান হলো।তিনি দৌড়ে গিয়ে দ্রুত নিয়ত করে ফরজ নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন।উন্মুক্ত ধর্মপ্রান জনগন আর যাই করুক একজন মুসল্লীকে তো ধরে পিটাতে পারে না।তাহলে পরকালে কি জবাব দেবে?
এভাবে ফরজ এর পর সুন্নত ,সুন্নতের পর অবিরাম নফল নামাজ মেজিস্ট্রেট সাহেব পড়ে গেলেন।যতোক্ষন না জেলা পুলিশের রিজার্ভ বাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করলেন। ততক্ষনে ছেলে-মেয়েরা ভালোভাবে পরীক্ষা সমাপ্ত করলো।সচেতন নৈতিকতা সম্পন্ন অভিভাবকদেরও আর কোন রাগ ততক্ষনে নাই।অভিভাবকেরাও বুঝলেন, মানুষ মাত্রই ভুল করে,কুল্লু নাফসি জায়াকাতুল মউত বা ম্যান ইজ মরটাল।

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬

বেগম সুমরো ।

আর কোন শহর ও তার ইতিহাস আমাকে এতোটা টানে না, যতোটা দিল্লী।গত এক হাজার বছরে দিল্লীকে যা প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে ,তেমনটা আর এই উপমহাদেশের খুব কম শহরের ভাগ্যে জুটেছে।ডিকেন্সের “আ টেল অভ টু সিটিজ” উপন্যাসে যেমনটা করে শুরুতেই বলা হয়েছে-It was the best of times, it was the worst of times, it was the age of wisdom, it was the age of foolishness , দিল্লী ঠিক তেমনি সময় ইতিহাসের অনেকটা সময়ে কাটিয়েছে।এই বিস্মৃত সময়ের একটা হারিয়ে যাওয়া চরিত্র হলো মাদাম সুমরো।আমি এই ভদ্রমহিলার ব্যাপারে বেজায় কৌতুহলী ছিলাম।বস্তুত অষ্টাদশ শতকের এই পর্বে আর কোন উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র আমার মনে এতো দাগ কাটে নাই।ডিকেন্সের মতো করেই ঐতিহাসিকরা এই সময়টাকে উল্লেখ করেছেন “গারদি কা ওয়াক্ত” বা সময়ের চুড়ান্ত খারাপ পর্ব।এই সময়েই দিল্লীর রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা একটি সাড়ে চার ফুট উচ্চতার বালিকা যাকে এক কোটা ওয়ালীর থেকে আনা হয়েছিলো সেই পরবর্তী ৫৫ বছর অতীব দক্ষতার সাথে দিল্লীর একটা অংশ শাসন করেছিলো,যখন সাম্রাজ্যগুলো টলটলায়মান এবং কেউ নিরাপত্তার সাথে বাস করতে পারছিলো না।নেতৃত্বের সহজাত উপস্থিতি আর কুটনৈতিক দক্ষতার জন্য বেগম জোয়ানা নোবিলিস “সমরু” অপ্রতাশিতভাবে অষ্টাদশ শতকে একজন স্মরনীয় মহিলা হয়ে উঠেন।কাশ্মীরি বালিকা ফারজানা কিভাবে বেগম সুমরো হয়ে উঠেন?যাকে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম উপাধি দেন জেবউন্নিসা ,যিনি সম্রাটের কন্যাসম হয়ে উঠেন ক্রমশ।
শুরুটা হয় বেশ কয়েক দশক আগেই, নাদিরের দিল্লী শেকিং এর পরই মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তিম ঘন্টা বেজে যায়।যে সময়ের কথা বলছি, তখন ক্ষমতায় মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম।যার পরোয়ানা কেবল উত্তর দিল্লীর পালামের আশেপাশে চলতো।যিনি তখন সাকুল্যে ৫০০০ সৈন্যের অধিকারী।অনেক স্বাধীন সামন্তেরও এর থেকে বেশী সৈন্য ছিলো।ফলে দিল্লীসহ আশেপাশে জঙ্গুলে আইন ফিরে এলো।কেউ কাউকে মানতো না।নাগরিক জীবন পুরোপুরি ব্যাহত।মুঘল গভর্নররা নিজ নিজ পরগনায় স্বাধীনভাবে শাসন কায়েম করেছিলো।শিখ আর মারাঠাদের মতো শক্তিগুলো নিজেদের সাম্রাজ্য বৃদ্ধি করছিলো।আর ক্লাইভের লুন্ঠনে অনুপ্রানিত হয়ে ইউরোপীয় বনিকের দল শাসকে পরিনত হচ্ছিলো।প্রত্যেক ইউরোপীয় বনিক কাম ভাড়াটে সৈন্যের মনে শাসক হওয়ার সুতীক্ষ্ণ ইচ্ছা।দলে দলে ইউরোপ থেকে মার্সেনারি সৈন্য ভারতে আসছিলো।মার্সেনারি সৈন্যদের একটা চুড়ান্ত তুঙ্গীয় অবস্থা চলছিলো।সবাই সর্বোচ্চ নিলামকারীর কাছে নিজেদের সার্ভিস বিক্রি করছিলো।সাথে করে তারা নিয়ে এসেছিলো, ইউরোপের বন্দুক আর বারুদের শক্তি।
তেমনি সময়ে চক্রান্তের এই ঘোলা পানিতে যথারীতি অস্ট্রিয়া থেকে এলেন ওয়াল্টার রেইনহার্ট সমব্রে ১৭৫০ সালে। ১৭৬০ খ্রীঃ সমব্রে মীর কাসিমের অধীনের বাহিনীতে যোগ দেন।উনি পাটনায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে মীর কাসেম যখম মথিত হচ্ছিলো ,এই সময়টাই গিয়ে হাত লাগান।কাসিম পাটনার দখল পান।দক্ষ যোদ্ধা সমব্রের হাতে প্রায় ১৫০ ইংরেজ সৈন্যের প্রানহানী ঘটে।ইংরেজ ঐতিহাসিকরা এজন্য সমব্রের নাম ইতিহাসে “বুচার অভ পাটনা” বলে অভিহিত করে যান।সেই সমব্রে একদিন দিল্লীর চাদনি চকের চৌরিবাজারের খানুম জানের কোটায় বাইজির আসরে ১৫ বছরের ছোট খাটো আট-সাট শরীরের ফারজানাকে দেখেন।উনি তার প্রেমে পড়ে যান।তাকে তার হেরেমে নিয়ে তুলেন।সে সময় দেশীয় রাজা-রাজরাদের মতো ইউরোপীয়রাও হেরেম মেইন্টেইন করা শুরু করেছিলো।সমব্রেও করতো ,তারও বেশ কিছু রক্ষিতা ছিলো,যেমন বড়ি বিবি।তাও তার হৃদয় মন দখল করে নেয় ফারজানা জেবউন্নিসা।তিনি তাকে বিবাহ করেন।ফলে ফারজানা হয়ে যান মিসেস সমব্রে ,সেখান থেকে ভারতীয় উচ্চারনে সুমব্রো হয়ে বেগম সুমরো।তারা দিল্লীতে বসবাস করতে থাকেন।আর সমব্রে মার্সেনারি সৈন্য হয়ে তার নিজস্ব দল নিয়ে বিভিন্ন রাজা-রাজরাদের বাহিনীতে খেপ মেরে বেড়াতেন।এভাবে ১৭৭৩ সালে আগ্রার পশ্চিমের জাট দস্যু সুরজমলের বংশধর ভরতপুর বল্লভগড়ের দিগ রাজাদের হাতে আগ্রার পতন ঘটে যায়।মোঘল সম্রাটের নিজের আর তাকত নাই ,তার পুর্ব পুরুষের সমাধি আর আগ্রা দুর্গ রক্ষা করার।তিনি সাহায্য চাইলেন আফগান রোহিলা দলপতি নাজাফ খানের।সে এসে জাট দস্যু দিগ রাজাকে আগ্রা থেকে তাড়ালেন।রোহিলারা পেশাদার যোদ্ধা,তাই জাটরা তাদের কাছে নিয়মিত শত্রু।আফটার অল, তাদের নেতা আরেক সিনিয়র নাজাফ খানের হাতেই পরাক্রমশালী জাট দস্যু সুরজমলের মৃত্যু হয়।এখনের নাজাফ খান জাটদের প্রতিরোধে বিচলিত হননি।কিন্তু তার জয়ে ঘাম ঝড়িয়ে দিয়েছে সমব্রের নেতৃত্বে তার ভাড়াতে দল।নাজাফ খানের ব্যাপারটা ভালো লাগে।জয়ী হয়ে সমব্রেকে বন্দী নয়,বরং প্রস্তাব দেন তার বাহিনীর সাথে কাজ করবেন কিনা? সেই সময়ে ভাড়াটে সৈনিকরা ভীষন দল পাল্টাতো।সমব্রেই তখন পর্যন্ত ১৪ বার দল বদল করেছে।এবারও করলো।নাজাফ খানের সাথে জুটে গেলো।সাথে করে পেলো দিল্লীর অদুরে সারাদানায় বিশাল জায়গীর।সমব্রে সাহেব আগ্রার কোতোয়ালের দায়িত্বও কিছুটা সময় পালন করেন। এখানেই বেগম সুমরো তার জীবনের পরবর্তী ৫৫ বছর কাটান একটা সু-শৃংখল বাহিনীর কত্রী হয়ে।কিন্তু সমব্রে সাহেব বেশীদিন বাঁচেন নি। ১৭৭৮ খ্রীঃ এ তিনি মারা যান।
বেগম সুমরো এর পর তার ৪হাজার শক্তিশালী বাহিনীর সাহায্যে অনেক লড়াই পরিচালনা করেন, যে বাহিনীতে প্রায় ১০০ জনের বেশী ইউরোপীয় অফিসার ছিলেন।১৭৮৩ সালে শিখ বাহিনীর সেনাপতি বাঘেল সিং ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে এসে দিল্লীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।যেখানে এসে বাঘেল সিং সৈন্য নিয়ে অবস্থান করে,সেই জায়গাটার নাম এখনো তিস হাজারি। মুঘল সম্রাট শাহ আলম ২য় বেগম সুমরোকে আহবান জানালেন এই অচলাবস্থা কাটাতে।বেগম সুমরো সফল কূটনীতি চালালেন।দিল্লীতে তিনি শিখদের জন্য ৮টি গুরুদ্বোয়ারা তৈরী করলেন আর নগদ অর্থ প্রদান করেন বাঘেল সিং কে পাঞ্জাবে ফেরত পাঠালেন।সম্রাট খুবই সন্তুষ্ট হলেন।কিন্তু ৫ বছর পরই সম্রাটের ভাগ্যে ভীষন ঘটনা ঘটে গেলো।আফগান কুখ্যাত রোহিলা দলপতি গুলাম কাদির এসে দিল্লী দখল করলো।এই নাদিরের দিল্লী লুটের পর যেই দিল্লী দখল করে,প্রথমে এসে সম্রাটকে ধরে গুপ্ত ধনের জন্য।কিন্তু নিঃস্ব সম্রাট কিছুই দিতে পারেনা।গুলাম কাদির এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সম্রাটের দুচোখ উৎপাটন করে ফেলে।সাথে করে এই অন্ধ অসহায় সম্রাটকে প্রত্যেকদিন ভীষন নিগ্রহ আর অনাহারে রাখা শুরু করলো।বেগম সুমরোর কাছে এই সংবাদ পৌছামাত্রই তিনি তার বাহিনী নিয়ে দিল্লীর দিকে আগানো শুরু করলেন।একিই সাথে তার মারাঠি মিত্র গোয়ালিয়রের মাহাদজি সিন্ধিয়াকেও আহবান করলেন অন্ধ সম্রাটের এই দুরবস্থায় এসে সাহায্য করতে।উভয়ের মিলিত বাহিনীর কাছে গুলাম কাদির পরাজিত হয়ে বন্দী হন।বেগম সুমরোর নির্দেশে গুলাম কাদিরের দুই চোখ উৎপাটন করা হয়।সেই দুই চোখ পাত্র করে এনে মুঘল সম্রাটকে হাত দিয়ে উপলদ্ধি করানো হয়।গুলাম কাদিরের লাশ খুনী দরোওয়াজায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।ঐতিহাসিকেরা বলে ,কাদিরের ঝুলানো লাশ থেকে নিচে রক্ত পরতো আর এক ভীষন দর্শন কালো কুকুর এসে সে রক্ত চেটে খেতো।কেউ কখনো এর আগে এই কুকুর দেখেনি।বেশ কয়দিন পর কাদিরের লাশ আর কালো কুকুর দুইওই একেবারে উধাও হয়ে যায়।
সম্রাট ২য় শাহ আলম কৃতজ্ঞতা আর আনন্দ থেকে বেগম সুমরোকে উপাধি দেন বিলভড ডটার বা অলংকারশোভিত সুন্দরী কন্যা ওরফে জেবউন্নিসা।আর মাহাদজি সিন্ধিয়াকে উপাধি দেন “ভাকিল এ মুতালিক” বা সন্মানিত অভিভাবক।
বেগম সুমরো এরপরে একটা বর্নিল সময় কাটান দিল্লীওয়ালাদের সাথে ,ইউরোপীয়দের সাথে।কিন্তু একটা ভুল করে বসেছিলেন।তিনি আইরিস মার্সেনারি সৈনিক জর্জ থমাসের প্রেম এ পড়েন,যিনি তখন দিল্লীতে জাহাজি সাহিব বলে পরিচিত ছিলেন,কারন জাহাজের ডকশ্রমিক হিসেবে তার ভারতে আগমন ঘটে।জর্জ তার অত্যান্ত সুদক্ষ যোদ্ধা ছিলেন।কিন্তু এসময়েই তিনি আবার ফরাসী মার্সেনারি সৈনিক আঁমাদ লেভাসুর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করে ফেলেন।ফলে জর্জ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাহিনী ছেড়ে মারাঠা বাহিনীতে গিয়ে যোগ দেন।১৭৯৯ সালে লর্ড ওয়েলেসলি(মার্কুয়েজ ওয়েলেস্লি) আর ডিউক অভ ওয়েলিংটনের বাহিনীর হাতে শ্রীরংগাপটনম এর যুদ্ধে টিপু সুলতান ওরফে টিপু সাহিবের বীরের মতো মৃত্যু হয়।এরপর ১৮০৩ সালে কোম্পানীর সাথে মারাঠাদের যুদ্ধ শুরু হয়।বেগম সুমরো মারাঠাদের পক্ষ নেন।এরপর ১৮০৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া বাহিনী দিল্লীতে অভিযান চালান মুঘল সম্রাটকে মারাঠাদের হাত থেকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়ার জন্য।লর্ড লেকের হাতে মারাঠাদের চুড়ান্ত পরাজয় ঘটে।নতুন গভর্নর জেনারেল কর্নওয়ালিসও বেগম সুমরোর প্রতি প্রসন্ন ছিলেন কারন দিল্লীর যুদ্ধে অনেক বন্দী ইংরেজ সৈনিকদের বেগম সুমরো শিখ আর মারাঠাদের হাত থেকে সফল কূটনৈতিকতার মাধ্যমে রক্ষা করেছিলেন।বেগম সুমরোর মন্ত্রী দিওয়ান রাই সিং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরুর পুর্বপুরুষ ছিলেন।দিল্লীতে বেগম সুমরোর চাদনিচকে যে প্রাসাদ ছিলো ,তা এখনো টিকে আছে।সেখানে এটা ব্রিটিস যুগে ছিলো লয়েডস ব্যাংকের কার্যালয় আর স্বাধীন ভারতে সেটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে পরে। তার আরেকটি প্রাসাদ যেটা লাল কিল্লার সামনে ছিলো “ভাগিরথী মহল” সেটাও এখনো আছে।যেটা এখন দিল্লীর সুবিশাল ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রিনিক্স মার্কেট।
১৮৩৬ সালে বেগম সুমরোর মৃত্যু হয়।দীর্ঘজীবনে তিনি দিল্লীর ১ম ইংরেজ রেসিডেন্ট ডেভিড অক্টারলোনী ওরফে লুনী সাহেবের আমল দেখেছেন তেমন আরেক রেসিডেন্ট উইলিয়াম ফ্রেজারের সময়েও তিনি জীবিত ছিলেন।
বিঃ দ্রঃ বর্তমান ও অতীতের বেগম সুমরোর প্রাসাদের ছবি ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত।




সম্রাট আকবর ও মুসলমানী প্রসঙ্গ।

ইতিহাসের এইদিনে এই ভ্যালেন্টাইন ডে তে ১৪ ফেব্রুয়ারী,১৫৫৬ খ্রীঃ সম্রাট আকবর ১৪ বছর বয়সে দিল্লীর সিংহাসনে আসীন হন। ভ্যালেন্টাইন ডে তে সম্র...