সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৭

মুহম্মদ বিন তুঘলক।

শাসনকালের প্রায় ৫০০ বছর পরে ঐতিহাসিক মাউন্ট স্টুয়ার্ট এলফিনস্টোন তার বইয়ে লিখে যান, মুহম্মদ বিন তুঘলক তার যুগের সাথে বেমানান লোক ছিলেন।তিনি বদ্ধ উম্মাদ, সাইকো ,জৌতিবিদ্যা ও গণিতে দক্ষ ছিলেন।তুঘলকের সাথে সময় পার করেছেন ইবনে বতুতা ও ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দীন বরনী।তারা অবশ্য চা ছাকনী দিয়ে ছেকে যতোটুকু লিখলে জান বাচানো যায় ততোটুকু লিখেছেন।জান বাচানো ৩ ফরজ।
ইবনে বতুতা তার রাজত্বে ৮ বছর কাজীর দায়িত্ব পালন করেন।তিনি বলেন ,হেন কোন দিন নাই সুলতানের দরবারের মুখে বস্তাবন্দী লাশের স্তুপ ছিলো না।তিনি অবাধে মৃত্যুদন্ড দিতেন।চোরের হাত কেটে দিতেন, বেত্রেঘাত বা চাবুকের উপযুক্ত অপরাধীকে চাবকাতেন।মোটামুটি একটা রক্তাত অধ্যায়।ইবনে বতুতাকে তিনি ১২ হাজার স্বর্নমুদ্রা বছরে বেতন দিতেন, তাই বতুতা খুব আনন্দে ছিলেন।কিন্তু তিনি শেষের বছরে একটা ভুল করে ফেলেন।তিনি বুজুর্গ দরবেশ শেখ শিহাব উদ্দীনের সাথে সাক্ষাত করেন।পুরো দিল্লীতে শুধুমাত্র এই দরবেশই তুঘলকের কঠোর সমালোচনা করতেন। তাই তুঘলক এই দরবেশকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন।আর বতুতার সমস্ত দায়িত্ব কেড়ে নেন। ৪জন আজরাইল সদৃশ্য মামলুক দেহরক্ষী তাকে সর্বক্ষন পাহাড়া দেয়া শুরু করে।ডরে বতুতার খানা-দানা বন্ধ হয়ে যায়।তিনি শুকিয়ে যান, তিনিও দরবেশের জীবন-যাপন শুরু করেন।
জিয়াউদ্দীন বরনী বলেন, সুলতান নাগরিকদের উপর অত্যাধিক কর বসান।একিই সাথে নতুন করে তাম্র-মুদ্রা চালু করেন।কিন্তু সেটা সস্তা-গোছের হওয়াতে বাজারে বিপুল জাল মুদ্রার আনাগোনা হয়ে রাজকোষ শুন্য হয়ে পড়ে ।তুঘলক আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।এমতাবস্থায় তুঘলক দূষ্ট অবাধ্য নাগরিকদের দমনে ব্যাপক গোয়েন্দা নামিয়ে দেন। জনগন সমালোচনা না করতে পেরে যেহেতু তখন ফেসবুক এর ওয়াল ছিলো না,তাই দিল্লীর প্রাচীরের ওয়ালে তুঘলকের বাপ-মা-মাসীর নামে যা তা কহতব্য নয় এমন জিনিস লিখে রাখতো।তুঘলক তার হত্যাযজ্ঞ ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে দেন।সাথে করে বালিকা গোয়েন্দাও নিয়োগ দেন ,এরা আমীর ওমরাহের বাড়িতে নিয়োজিত থাকতো।এরা গোপন খবর দিতো মেথরদের,মেথররা দিতো শহরের গোয়েন্দা প্রধানদের।আমাদের শাসকরা এখন বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে কি হবে তুঘলক সফল হয়েছিলো বেডরুমে নিরাপত্তা দিতে।তেমনি এক ঘটনা ইবনে বতুতা বলেন, এক আমীর রাত্রে তার স্ত্রীর সাথে সংগম করতে চাইলে আমীরের স্ত্রী বলেন আজ তার মুড নাই ।কিন্তু আমীর জোর করে করতে চাইলে স্ত্রী তাকে সুলতানের মাথার দিব্যি দিয়ে আজকে করতে মানা করে।আসল পুরুষ আমীর শুনে নাই নিষেধাজ্ঞা। বালিকা গোয়েন্দা মেথর গোয়েন্দা প্রধান হয়ে তুঘলকের কানে এ কথা উঠে।তার নাম শোনার পর মাথার দিব্যি দেওয়ার পরও যার এশ উঠে তার মৃত্যুদন্ড ফরজে আইন।আমীর নিহত হন।
এমন অবাধ্য নগরীকে শাস্তি দেওয়া সুলতান স্থির করেন।তিনি দিল্লী থেকে ২০০০ মাইল দূরে মহারাষ্ট্রের দৌলতাবাদে রাজধানী সরিয়ে ফেলেন ।নগরবাসী মাত্র ৩ দিন সরে যাবার সময় পায়। সরে যাবার দিন দেখা যায়,শুধু এক পঙ্গু আর এক অন্ধ জানায় তারা যাবে না।সুলতান পঙ্গুকে উচু পাহাড়ের উপর থেকে ফেলে হত্যা করে আর অন্ধকে দুই পা ঘোড়ার সাথে বেধে দৌলতাবাদ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার হুকুম দেন।দৌলতাবাদ পৌছার পর দেখা যায় অন্ধের শুধু দুই পা আছে।শাহনামা ই হিন্দ এর লেখম ইসামা বলেন।এভাবে তড়িঘড়ি করে দিল্লী ছাড়ার সময় তার ৯০ বছর বয়সী বাবা প্রবল অসুস্থতায় অজ্ঞান ছিলেন।ফলে তাকে সেই অবস্থায়ই গড়ুর গাড়িতে করে নিয়ে সবাই রওয়ানা হন।সপ্তাহ খানেক পর জ্ঞান ফিরে উনি দেখেন এক গরুর গাড়িতে উনি,আর তার চারদিকে দূর্গম বন ,পাহাড় ও জীব জন্তু।তিনি জানতে চান,কোথায় তার দিল্লীর হাভেলি? সবাই বোঝায় পাগলের বাচ্চা পাগল দিল্লীর কি অবস্থা করেছে।উনি সেখানেই স্ট্রোক করে মারা যান।্দিল্লীর চার ভাগের একভাগ মাত্র লোক জীবিত দৌলতাবাদে আসে।
তারপর লম্বা কাহিনী ,দৌলতাবাদ একসময় তুঘলকের কাছে অসহ্য হয়ে যায়।তিনি আবার সবাইকে দিল্লী ফেরার আদেশ দেন।সেই পঙ্গু আর অন্ধ লোকের পরিনতি চিন্তা করে সবাই তার সাথে উদগ্রীব হয়ে রওয়ানা দেন।
তুঘলক এ যাত্রায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন।তার লিভার যকৃত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।সেখান থেকেই তিনি এক মরু ডাকাতের পিছে ধাওয়া করেন।ক্লান্ত শ্রান্ত সেনাবাহিনী বলে এর পিছে ছুটবেন না।এ ডাকাত না ,স্বয়ং মৃত্যু।কিন্তু তুঘলক ছুটলো।এবং বৃথায় ঘুরে আরো দূর্বল হয়ে পড়লেন।এসময় সিন্ধু নদের কাছে থাট্টায় নদী পেরোতে গেলে একটা তেলতেলে পাল্লা মাছ বা সিন্ধুর ইলিশ মাছ দেখে তার খুব খেতে ইচ্ছা করলো।হাকিম জানালো,সুলতান এটা খাবেন না।আপনার শরীরের কলকব্জা সব মরুভূমিতে ঘুরে বিকল হয়ে গেছে।এটা আপনার সহ্য হবে না। সত্যিই এ মাছ খাওয়ার পর ফুড পয়জনিং এ মুহম্মদ বিন তুঘলক অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানে।
ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দীন বরনী ব্যাপারটাকে এভাবে লিখেছেন, এভাবে অত্যাচারী সুলতান তুঘলকের হাত থেকে জনগন, আর জনগনের হাত থেকে অত্যাচারী সুলতান উভয়ে নিস্কৃতি পেয়ে গেলো।
বাংলা ভাষায় পাগলামীর সমার্থক তুঘলকী কান্ড এই সুলতানের কর্ম থেকেই উদ্ভুত।

আমার ফেসবুক স্টাটাস থেকে।

কলকাতায় সংঘমিত্র নামে এক এনজিও চমৎকার এক উদ্যোগ নিয়েছে।উনারা কাউকে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতে দেখলেই একটি গোলাপ ফুল ডাটিসহ নিয়ে সাথে এক ঘটি বা লোডা পানি নিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে যান।আশা করা হয় এর ফলে সেই লজ্জিত ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোথাও এভাবে ছাড়বে না।আর এদিকে সেই ব্যস্ত ত্রস্ত ব্যক্তি ফুল দেখেও হাগতে হাগতে পালিয়ে যায়।পথে হাগমার্কের চিহ্ন রেখে।- ২১ সেপ্টেম্বর,১৬।



আমি একদিন ঠিক করছিলাম, কেনো আমি এইসব রামপাল,ধনপাল ,দেশব্যাপী খুনাখুনি, ব্যাংক লুটা,রিজার্ভ লুটা ,সেভেন মার্ডার ,ট্রিপল ,পেন্টা,হেক্সা ,অক্টা মার্ডার নিয়ে প্রতিবাদ করি।এই যেমন কিছু বিশিষ্ট লোক এগুলো দেখলে একদম চুপ মেরে যায়।যেনো কিছুই হয় নাই। আমি কেনো তাদের মতো হয়ে এগুলো তলে তলে সমর্থন দিই না।তো আমি এইসব বিশিষ্ট লোক বনে গেলাম।দুই ঘন্টা পর দেখি কি আমার গায়ে দিয়ে পাঠার গন্ধ বের হইতেছে।আয়নায় গিয়ে দেখি, কোন এক চুদির ভাই এর প্রতিচ্ছবি। আমার আর সহ্য হলো না। আমি সোনা-রুপার পানি দিয়ে গোসল দিয়ে আবার মানুষ বনে গেলাম।- ২৮ আগষ্ট,১৬। 



অমিতাভের মা তেজি বচ্চন ইন্দিরা গান্ধীর খুব ঘনিষ্ট বান্ধবি ছিলেন।দিল্লীতে এরা পাশাপাশিই থাকতেন।বাড়ির ভিতর দিয়ে একে অন্যের বাসায় আসার একটা রাস্তাও ছিলো।অনেকে ভেবে থাকেন অমিতাভ রাজিবের খুব ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো,সেটাও ঠিক না।অমিতাভ বরং সঞ্জয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো।রাজিব তার বৈমানিক পেশাতেই ব্যস্ত থাকতো।অমিতাভ ৭০ এর দশকের সঞ্জয়ের ক্ষমতার নেউটা ছিলেন।একসময় সে সঞ্জয়ের বা ইন্দিরা গান্ধীর কোন গুরুত্বপুর্ন রাজনৈতিক মিত্র এলে তাদের রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে স্বেচ্ছায় যেতেন।কিন্তু এর মধ্যেই ৭৫ এর জরুরী অবস্থা দিয়ে ইন্দিরা ক্যাডাভেরাস সিচুয়েশন করে ফেলেন। আর অমিতাভ সে বছরই দিওয়ার আর শোলে তে সুপার হিট করে লাইমলাইটে এসে যান।তেমনি এক দিনে সঞ্জয় অমিতাভকে রিকোয়েস্ট করেন ,তার এক বিদেশী বন্ধুকে যদি অমিতাভ এয়ারপোর্টে রিসিভ করেন ,সে খুশী হবে।এই প্রথম অমিতাভ জানায় তার একটা পাবলিক গ্রহনযোগ্যতা আছে, এই অবস্থাতে তার পক্ষে সেটা সম্ভব না।সঞ্জয়ের সাথে তার আর হলো না। আবার রাজিব প্রধানমন্ত্রী হলে অমিতাভ গান্ধীদের কাছের মানুষে পরিনত হন। রাজিব মারা গেলে অমিতাভ ভুলেই যান সোনিয়া ও তার সন্তানদের কথা।
১৯৯৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রিয়াঙ্কার বিয়ের দিন অনেক আগেই ধার্য করার পর ঠিক আগের দিন ১৭ তারিখ অমিতাভ শ্বেতা বচ্চনের আকস্মিক বিয়ের দিন ধার্য করেন।যেহেতু দুই পরিবারের বিয়ের নিমন্ত্রিতরা প্রায় কমন দাওয়াতি ,তারা অমিতাভকে জানায় এক সপ্তাহ এগিয়ে বা পিছিয়ে দিন ধার্য করা যায় কিনা? অমিতাভ রাজি হলেন না। সোনিয়ার সাথে অমিতাভের আরেক দফা ভুল বোঝাবুঝির সুত্রপাত হলো।-২৬আগষ্ট,১৬।


অমিতাভকে দক্ষিনের লোকেরা পছন্দ করে না।এরমধ্যে মারাঠারা বা মহারাষ্ট্রের লোকেরা তো নয়ই।আশ্চর্য যে, অমিতাভের মা তেজি বচ্চন পাঞ্জাবি খত্রি শিখ হওয়া স্বত্বেও শিখেরাও তাকে পছন্দ করে না তার ১৯৮৪ সালের শিখ নিধনের সময় স্বার্থপরের মতো ভূমিকায়।এর বাইরে বাকি ভারতের লোকের কাছে সে জনপ্রিয়, সেটার সংখ্যাও কম নয়।
মারাঠা বা মহারাষ্ট্রের লোকেরা এই ৩০০ বছর আগেও বর্গীর হাঙ্গামা ,লুটতরাজ ,ব্যাপক ধবংশ যজ্ঞ চালিয়ে আমাদের বাংলা ,বিহার ,উড়িষ্যাতে ছেলে ঘুমিয়ে আর পাড়া জুড়িয়ে রাখতো।তারা শরতকালের পরই জমিতে ফসল উঠার আগে এসে রাজ্যের সীমানায় বসে থাকতো পরবর্তী বৈশাখ মাসের আগমন পর্যন্ত।বর্ষা আসার আগেই তারা মহারাষ্ট্র পৌছে যেতো।যারা এরকম লুটের ঐতিহ্য নিয়ে একটা কাল পার করেছে, তাদের কাছে এটা অনেক প্যাথেটিক যে ,এলাহাবাদের কোন যুবক এসে সিনেমা করে তাদের দেশে এতো টাকার মালিক হয়ে যাবে।
তাই অমিতাভ তাদের কাছে জনপ্রিয় নয়।তারা এটাও খেয়াল করেছে,অমিতাভের চ্যারিটি কার্যক্রম বেশীর ভাগ সময়েই উত্তর ভারতে বেশী চলে। হালে অবশ্য অমিতাভ এটা টের পেয়ে একটা ব্যালান্সের চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার সাংবাদিক কুল একটা গুরুত্বপুর্ন প্রভাবক সেটাও অমিতাভ হারিয়েছিলো অভিষেক -ঐশ্বরিয়ার বিয়ের সময়।যেখানে ইংল্যান্ডের রাজ পরিবারে বিয়ের সময়ও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার থাকে,সেখানে এশ অভির বিয়ে অত্যান্ত সুরক্ষিত আর সাংবাদিকদের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞায় করা হয়েছিল।আমাদের দেশে এই ৩ দিন আগেই ১৯৬ জন সাংবাদিক দরিদ্র ভাতা পায় খামে করে।এখানে এভাবেই কয়েকদিন পর পর কুকুরকে হাড্ডি দেওয়ার মতো করে সাংবাদিক গেটে মজুত করে বেধে রাখা হয়। দরকারের সময় জরুরী কথাবার্তার সময় এই খামে ভরা কুকুরের দল ঘেউ ঘেউ হেউ হেউ করে এমন এক কেওয়াচ পাকিয়ে তোলে যে, আর আসল সমস্যাটাই সবাই ভুলে যায়।
কোন খান থেকে কই এসে গেলাম। ঠিক দুক্কুরবেলা, ভুতে মারে ঢেলা।-২৬ আগষ্ট,১৬।


আদিম নরখাদক জনগোষ্ঠীর মোটামুটি বেশীর ভাগ অবস্থান ছিলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে।প্রশান্ত চিত্তেই তারা কাজটা করতেন।বেশী কুখ্যাত অঞ্চলটি ছিলো পাপুয়া নিউগিনি ও মেলানেশিয়া অঞ্চলএর সলোমন আইল্যান্ডের মালাইটা, একটু দূরে তফুয়া। ফিজির ও এই বদনাম ছিলো।আর ইস্টার আইল্যান্ডের ওরা তো শত্রু ধরে খেতে খেতে মজা পেয়ে যাওয়ায় নিজেদের মধ্যেই কারোকে বিভিন্ন কল্পিত দোষে খেয়ে ফেলতো।চিন্তা করেন একবার, নিজ এলাকার স্বাস্থ্যবান নাদুশ-নুদুশ লোকটির উপর তারা কিভাবে তাকাতো।মাঝে মাঝে টুপ করে লোল পড়ে যেতো।
পাপুয়া নিউগিনির ওরাও এই গত শতকেও আশরাফুল মাখলুকাতকে ফ্রাইড চিকেনের মতো পরিতৃপ্তির সাথে ভক্ষন করতেন।মাথাটা ট্রফি হিসেবে ঘরের দাওয়ায় ঝুলিয়ে রাখতেন।যার দাওয়ায় যতো মাথা ,তার ততো সুনাম।নরখাদক রমনীকুলের দৃষ্টিতে সে ততো বেশী বীর্যবান বীর।তাই সেখানের উঠতি যুবকের জীবনের লক্ষ্যই থাকতো ,একটা বড়সড় মাথা।
ইন্দোনেশিয়ান ডায়াক মাথাশিকারীরাও হেডহান্টিং এর জন্য বিখ্যাত ছিলো।আমাদের কাছের এলাকায় কেবল এই সুনাম ছিলো নাগাদের।
স্বাভাবিক ভাবেই ওরাও যেহেতু মানুষ ছিলো,তাই এই নরখাদক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছিলো পদ্য রচনা করার মতো লোক, ছবি আকার মতো সুক্ষ অনুভূতিসম্পন্ন লোক, আর খাওয়া শেষ হলে মাথায় হাত দিয়ে ভাবুক গোছের লোক।কি উচু তারের অনুভূতিসম্পন্ন সব লোক!
কথাগুলো কেনো মাথায় আসলো? আমি আজকে চারদিকে রঙ পালটানো গিরগিটির মতো লোকদের মানবতার কথা বলতে শুনি।-১৫ জুলাই,১৬। 


আমাকে একটি শিক্ষিত রামপাল দিন। আমি আপনাদের মহিপাল,গোপাল,ধর্মপাল আর পে-পাল দিবো।-১৩ জুলাই,১৬।


আমার বন্ধুকে চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে বনের মধ্যে এক শাখায় বদলি করা হয়েছে।জ্বি না, উনি প্রকৃতি আর বন-জঙ্গল মোটেও ভালো পাইতেন না।পানিশমেন্ট হানিমুন। আমার বুকটা ভেঙ্গে গেছে।এমনিতেই বন্ধু-বান্ধব দিন দিন কমতেছে ,তার উপর যদি এমন করে কাছের মানুষগুলো নিজেদের দোষে বনে-বাদারে আদাড়ে পাদাড়ে গিয়ে পড়ে, জীবনটার সুখ কই থাকে?
তার দোষ হলো, সরকারী চাকরী করে তার উপর ন্যস্ত করা দায়িত্বের অবহেলা।তাকে তার উর্ধতন বস বেশ কয়েক কপি অসমাপ্ত আত্ম-জীবনী বিলি বিক্রি করার দায়িত্ব দিয়েছিলো। আমার কমবখত বন্ধু বিক্রি তো করেই নাই।সেগুলোকে আলমারীতে ঠাই রেখে দিয়েছিলো। এর জন্য কারন দর্শাতে বললে, সে আবার চ্যাটাং চ্যাটাং উত্তরও দিয়েছে। এখন বলুন, ও থানচিতে যাবে না তো কে যাবে?
যাবার বেলায় দূঃখে বেদনায় জর্জরিত আমাকে সে জানায়, নে এই মোডেমটা .১৪৭ জিবি আছে,মেয়াদও ২০৩০ সাল(আমিও এতোদিন বাচমু না)।ঐখানে তো আর বাংলালায়ন নাই।তুইই চালা।আমি দূঃখে ,আনন্দে হিক্কা দিয়ে কেদে ফেলেছি।অত্যান্ত লজ্জার সাথে অনুভব করলাম,সরকারকে যতো খারাপ ভাবি,ততো খারাপ সরকার না। আর আরো অনুভব করলাম,আমি কিভাবে যেনো ভিতরে ভিতরে চাচ্ছি,বন্ধু থানচি থাক।আমি তাকে বড় পাথর,ছোট পাথর,বগা লেক, কেউক্রাডং,তাজিন ডং,সৈকত পাড়া এইসব ঘুরার জন্য ঠিকানা দিয়ে দিছি।-১৩ জুলাই,১৬।


৭০-৮০ এর দশকে কংগ্রেসী আমল বা সাময়িক যুক্তফ্রন্ট আমলেও হিন্দি সিনেমাগুলোতে মুসলমান চরিত্রগুলোকে স্নেহময়ী চাচা, ভাই বা বিভিন্ন পালক বাবা-মার ভূমিকায় চমৎকার করে দেখানো হতো।অমিতাভের কুলি হতে শুরু করে অসংখ্য সিনেমায় তার উদাহরন পাবেন।
এরপর ৯২ এর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা থেকে শুরু হয়ে ২০০২ সালের গুজরাটের মুসলমান নিধনযজ্ঞ এগুলো পার হয়ে যতো সময় গড়ায় হিন্দি সিনেমায় হাজি রুমাল কাদে দেয়া বিভিন্ন ভাইয়েরা শুধুই সন্ত্রাসী, শুধুই সন্ত্রাসী। টিভির সিরিয়াল গুলাও পিছিয়ে থাকে না। বিভিন্ন নেগেটিভ চরিত্রে শুধুই মুসলমান সন্ত্রাসীরা দায়ী, নাটক সিনেমায় জনি লিভারের কমেডি যেমন একটা অবধারিত অংশ ,তেমনি মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাসী ,এটিও অবধারিত অংশ হয়ে যায়।
ভারত এই ত্রিশ কোটি মুসলমান নিয়ে ভীষন বিপদে পড়ে গেছে।-১০ জুলাই,১৬।



চারদিকে গোল্ডেন এ প্লাস এর ছড়াছড়ি দেখে আমার স্ত্রী একটি অনেস্ট ইচ্ছা-পোষন করেছেন|আমার 4 বছরের গুনী পোলা যে আজকে 5 মাসেও অ আ থেকে এ ঐ পর্যন্ত আসতে পারে নাই|আমার স্ত্রী বলেছেন -ইশ এই গাধাটা বড় হতে হতে যদি এই এই পাশের বাজারটা থাকতো?যেদিকে তাকাই খালি এ প্লাস,আমাদেরটাও পার হয়ে যেতো এই জোয়ারে|
আমি বলছি,এতো হতাশ হয়ো না| আল্লাহ চাইলে কি না হয়! ওরা মুখে তো বলছে 2041 পর্যন্ত থাকবে, আরো কি ঠেলেঠুলে 20-50 টা বছর পার করবে না|-২৫মে,১৬।



আজকে রিজার্ভ লুট,কালকে রুপালী ব্যাংক লুট ,পরশু অগ্রনী ব্যাংক লুট এসব দেখে মনে আমার এদের প্রতি তীব্র মায়া জেগেছে|কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই রুপসী কন্যাদের এভাবে যেভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সতীত্বনাশ করা হচ্ছে, এদের আত্মহত্যা ভিন্ন আর কি রাস্তা থাকতে পারে|
-২৫মে,১৬।



সেতুমন্ত্রীকে প্রায় দেখি ঘোষনা দেয়, পদ্মাসেতুর 25% সম্পন্ন,34% সম্পন্ন| দেখে মনে হয় উনি পদ্মাসেতুর টরেন্ট ডাউনলোড দিয়েছেন,ফাইল নামতেছে আস্তে আস্তে|
|
-২৫মে,১৬।



গোলার ধান বেইচ্যা পাকা পায়খানা বানাইছি| এখন কি খাইয়া হাগমু!-৮মে,১৬।



আমায় একটা নিরাপত্তা এনে দাও,যার বলয় সাদা|

মানুষ বড় অসহায় প্রানী|সে কোন বলয় সৃস্টি করতে পারেনা, অথচ বিপদে পড়লে জোনাকি পোকার পুটকনেও আলোর বলয় দেখা যায়| কিংবা ভোদরেরা,বিপদে পড়লে তাদের গুহ্যদ্বার দিয়েও গ্যাসীয় বলয় নির্গত হয়|
- আইজিপির নিরাপত্তা বলয় তৈরীর আহবানে।


আমি কয়দিন আগে সাংবাদিকদের অধঃপতন নিয়ে লিখেছিলাম।রাস্তাঘাট থেকে ধরে এনে যাকে তাকে সাংবাদিক বানিয়ে বা নিজে তা বনে যাওয়ার ফল হলো পদতলে সাংবাদিকতা। আতিয়ার বুদ্ধি করে এইরকম ছাগলগুলোকে মাঠে চড়াতে নিয়ে আসছে।যেটাতে তার দক্ষতার অভাব কোনকালে ছিলো না।
যেকোন সুস্থ দেশে সাংবাদিকেরা এরকম অভিযুক্ত লোককে প্রশ্ন করে কালঘাম বের করে দেয়।
খালি এখানে দেখা যায় কাঠঠল গাছের পাতা দিয়ে এগুলারে আপ্যায়ন করা হয়।আর চইয়ার তলের সাংবাদিকেরা ম্যা ম্যা ম্যা করে পাতা খায় আর আবেগে কাদে।আর পাতার সেলুলোজ ভেঙে পেটে গ্যাস বেড়ে যাওয়াতে পাদে।-১৭ মার্চ,১৬।

কালকে রাতে মাঠে আমাদের আড্ডার ব্যাডমিন্টন কোর্টে দাঁড়িয়ে আছি।এক লোক(নাম বলা বাঞ্ছনীয় নয়) এসে বলে আপনাদের তো এবার বেশী খেলা হয় নাই।বাশগুলো নস্ট(দুইপাশের দুইটা প্রকান্ড বেড়ের বরক বাশ) করে কি লাভ?বর্ষায় এমনিতে নস্ট হবে, আমাকে দিয়ে দেন।
জিজ্ঞেস করলাম, কি করবা? বলে কি- কোরবানীর সময় গরুর রান ঝুলামু।কাটতে সুবিধা হয়।
আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,গোশত বানানির গাছের গদামটা তার আছে কি না?না থাকলে যেনো আমারটা নিয়ে যায়।কারন যে গরুটাকে আল্লায় তার কিসমতে রাখছে সেটা বর্ডার পার হইছে কিনা কে জানে?এমন খাদকের চোখে চোখ রেখে কথা বলাও সাহসের ব্যাপার।-১৭ মার্চ,১৬।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার এই মুহুর্তে সবচেয়ে যোগ্য অধিকার আছে একটা জলাতঙ্ক আক্রান্ত লালা ঝরা ক্ষেপাটে কালা কুকুরের।যে দায়িত্ব বুঝে নিয়েই প্রথম তার বোর্ডের সহযোগী হতে শুরু করে মন্ত্রী-মিনিস্টারদের পাইকারি হারে কামড়িয়ে যাবে।যার ফলে কামড় খাওয়া দায়িত্ববান লোকেরা আপাতত ৮-১০ ঘন্টা ব্যস্ত থাকবে নাভিতে দ্রুত ৭টা রাভিপুর রেবিজ টিকা দেওয়ার কাজে।তারপর শরীর ধীরস্থীর হলে রিজার্ভ,লুট, সার্ভারের ডাটা সরানো এসব অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত হবে।-১৭ মার্চ,১৬।


যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য হৃদয়বিদারক পরিবেশে আতিয়ার সাহেবের পদত্যাগপত্র গৃহিত হয়।এ সময় কান্নার রোল পড়ে যায়।ক্যামেরাম্যান,সাংবাদিক, স্টাটাসদাতা কেউ না কেদে থাকতে পারেনি।যে জীবনে কাদেনি এসময় তার কঠিন চোখেও কান্নার গ্যাস বেরিয়ে গেছে।
এটাই মানবিকতা। রিজার্ভ গেলে রিজার্ভ আসবে,কিন্তু আতিয়ার গেলে আরেকটা আতিয়ার কি জাতি পাবে? এটাই আজ জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন।-১৫ মার্চ,১৬।


আজকে সাংবাদিকতা নিয়ে কয়েকটি স্টাটাস দিয়েছি।এটাই লাস্ট দিই।আজকের সাংবাদিকতা কাওরান বাজার বা সিদ্দ্বেশ্বরীর বিল্ডিং কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। প্রকৃত সত্য খবরের জন্য কে পরিশ্রম করবে?সাংবাদিকেরা ফেসবুকে বসেই খবর পেয়ে যান।এজন্য এরা ফেসবুকে সবচেয়ে বেশী সময় দেন।আর যাকে তাকে ব্লক করে বেনামে ব্লক করা লোকেরই আইডিতে থেকে অনেককিছু শিখে বেতন হালাল করে।চারন সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দীন একবার ঠিক করে তিনি ৭৪ সালের বাসন্তির জাল পড়া ছবিটার সম্পর্কে খবর নেবেন।কারন বিশ্ব কাপানো ছবিটা তুলে তখনকার ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ আওয়ামি লিগের পেটোয়া বাহিনীর লক্ষ্য হয়ে পড়েন।সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দীনের পথ থেকে পথে বইয়ের ২০ পৃস্টায় যাবেন।সেখানেই পাবেন আওয়ামি লিগের তখনকার ইউপি নেতা আনসার আলীর নাম,যিনি পরে ভোটে জিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হন।সেই আনসার আলিই সাংবাদিক আফতাব আহমেদকে বাসন্তির দুর্গতি দেখান।এজন্য আনসার আলীকেও বিড়ম্বনা সইতে হয়।এই আনসার আলীই ৭৮ সালে মোনাজাত উদ্দীনকে জানান,মোনাজাত ভাই,আমি যে দলই করি,আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি দেশকে ভালোবাসি।তাই বাসন্তির এই ছবি মোটেও মিথ্যা না।আমি আর আফতাব তার স্বাক্ষী।শুনেছি তিনিও ছবি তুলে ভুগেছেন।-১৪ মার্চ,১৬।


একবার আমাদের গুনধর এক মন্ত্রী হ্যাকারদের নিয়ে বক্তৃতা দেয়ার সময় বলে ফেলেছে, আমরা হকারদের যদিও বৃহত্তর স্বার্থে রাস্তা থেকে উঠিয়ে দিচ্ছি কিন্তু দ্রুততম সময়ে তাদের পূনর্বাসন করবো।নতুন দোকান পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবে।সরকার চায় না তারা এভাবে অন্যায় পথে জনগনের বিঘ্ন ঘটায়।-১০ মার্চ,১৬।


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকাররা দুই দফায় ৭৬০০কোটি টাকা মেরে দিয়েছে।একমাস পর সংশ্লিষ্ট লোকদের খুপড়িতে এটা প্রবেশ করার পর তারা নড়েচড়ে বসেছে।তারা নাকি পত্রিকা মারফত জেনেছে।
বাংলাদেশের প্রায় গ্রামগুলোতে একটা করে পাগল না হয় পাগলী থাকে।দূঃখজনকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতোই পাগলীদের প্রায় দুষ্টলোকে পেয়ে বসে ।এদের অপকর্মের ফলে পাগলীটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে।দুষ্টলোকেরা জানে পাগলি তাদের নাম বলে দিতে পারে,তাই কর্ম সম্পন্ন হলেই পাগলীকে খুব একটা পিটুনী দেয়।পাগলেরা শুধু শেষ ঘটনা কিছু মনে রাখতে পারে, এ সুত্রানুযায়ী পাগলী পিটুনীর আগের ঘটনাটা ভুলে যায়।কেবল বলে বেড়াতে পারে কে বা কারা তাকে প্রহার করেছে।আসল ঘটনা বাদ পড়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আসল ঘটনা বাদ পড়ে গেছে কর্ম সারার পর পিটুনী খেয়ে ।শুধু হ্যাকারের কথাটাই সর্বশেষ তাদের মনে আছে।
-১০ মার্চ,১৬।




নতুন লেখকদের উচিত না বই বিক্রি না হলেও ঢালাওভাবে বই উপহার দেয়া।দরকার হলে ঘরে রেখে দেয়া অনেক ভালো।কারন মাগনা উপহার পেলে কেউ তার মুল্য বোঝে না।ভাবে আরে ওর বই কেনার কি আছে,বেচা না হলে এমনিই দিবে।
আগেকার লোকেরা নতুন গ্রাম্য হাট বসালে ব্যবসায়ীদের অনেক যত্ন করে এনে যদি দেখতো তেমন বেচা হয় নাই।বাজার কমিটি নিজেরাই স্ব উদ্যাগে কিনে নিতো। কারন তারা দেখেছে কিছু লোক বাজার সময়ে দ্রব্য না কিনে বিকেলে বাজার ভাঙার অপেক্ষায় থাকতো।যদি সস্তায় মিলে।বাজার কমিটি জানতো, এরা একবার কেনার স্বাদ পেলে চারদিক ছড়িয়ে দেবে যে বিকেলে সস্তায় দাও মারা যায়।তাই বাজার কমিটি সেইসব দ্রব্য কিনে নিয়ে ঐসব কাস্টমার নামধারী স্টিমারের চোখের সামনে দ্রব্যগুলো নদীতে ফেলে দিতেন।

সারকথা কি? হ্যা ভাইলোক,দরকার হলে বই নদীতে ফেলে দিবেন।-১৭ ফেব্রুয়ারী,বইমেলা ১৬ থেকে।



এমনকি লেখকদেরও প্রসববেদনা আছে।বইমেলার ডেট যতো আগায় বেদনা জটিলতাও তেমনি বাড়ে।লেখকদের পায়ের পাতায়,পায়ে পানি এসে যায়।প্রসুতি এ অসহায় অবস্থায় যেমন হেটে বেড়ানো সুস্থ সবল স্বামিটির উপর কিছুটা ক্ষেপে থাকে(এই লোকও তো দায়ী) তেমনি লেখকও পাঠকের উপর কিছুটা ক্ষেপে থাকে।লেখক ও মা দুজনেই আগত সন্তানটিকে নিয়ে টেনশনে থাকে।-২৪ জানুয়ারী,১৬।বইমেলা এলো বলে।



একটা গ্রুপে টারজান নিয়ে আলোচনা শুনে মনে পড়ে গেলো, আমাদের সময়ে টারজান বেশ জনপ্রিয় ছিলো। আর হলিউডের একটা ব্যাপার আছে, তারা অনেক জনপ্রিয় চরিত্রকে বাজারে সেরকম চাহিদা আছে বুঝতে পারলে পর্ন মুভিতে একটা ভার্সন ছাড়ে ।এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগী হিসেবে আছে ফ্রেঞ্চ ও ডাচরা। আমরাও সৌভাগ্য কিংবা দূর্ভাগ্যবশত তা দেখার সুযোগ পাই। সেই হিসেবে বোঝা গেলো ,একদিন এভাটার ,লর্ড অব দ্য রিং বা হবিট এদের পর্নোও আসতে পারে। বাজার চাহিদা অনুযায়ী।-৩১ ডিসেম্বর,২০১৫।
































ভারতের মর্দামী,২১ সেপ্টেম্বর২০১৬ ফেসবুক স্টাটাস থেকে।

বাংলাদেশ পাশে থাকবে এটা শুনে ভারতের মধ্যে একটা যুদ্ধম যুদ্ধম ভাব এসে গেছে| এবার পাকিস্তানের রেহাই নেই | ভারত এখন ফুল থ্রটলে আছে, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেই ঘ্রাউ করে উঠে |কারো কারো যেমন নুনুর আগায় মুত এসে থাকে, চেইন খোলার আগেই মুতে দেয় |ভারতের এখন রাইফেলের আগায় বুলেট এসে রয়েছে, গতকালই পাটগ্রামে বিএসএফ হযরত আলীকে গুলি করে মেরেছে |পাকিদের চীনাদের সাথে হেডমে কুলোয় না তো কি হয়েছে, ঘরের বৌ পিটিয়ে মর্দামি তো বজায় থাকে|

রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৭

জুলফিকার আলী ভুট্টো ও রাজনৈতিক অভিশাপ।

উপমহাদেশে রাজনৈতিক পরিবারগুলোর ভেতর একটা ট্রাজেডি আছে।আমি বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এখানে টানবো না।গান্ধী পরিবার বা ভুট্টো পরিবার সবাই এই ট্রাজেডির ভেতর পড়েছে।কেউওই ক্ষমতাকে ভোগ করতে যেয়ে স্বাভাবিক পরিণতি পায়নি।অথচ নিয়তির পরিহাস,এরা প্রত্যেকেই গনতান্ত্রিক নির্বাচনেই ক্ষমতায় এসেছিলো,কিন্তু কি এক অমোঘ আকর্ষনে এরা সেই জনগনের দেয়া মতামতকে একপর্যায়ে অগ্রাহ্য করেছে।এভাবে ইন্দিরা জরুরী অবস্থা জারি করেছে,ভুট্টো প্রতিপক্ষের হত্যা গুমে জড়িয়ে গেছে।পরিণতি শুভ হয়নি কারোর জন্য।
জুলফিকার আলি ভুট্টো প্রয়াত স্যার শাহনেওয়াজ ভুট্টোর ছেলে।ব্রিটিসদের ধামাধরা শাহনেওয়াজ ভগত সিং মামলায় সরকার পক্ষের কৌশলি ছিলেন।সিন্ধের লারকানায় তার আড়াই লাখ একর জমি ছিলো,যেটা বিশ্বের কোন কোন দেশের আয়তনের সমান।জুলফিকার সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মান।সমসাময়িক ভবিষ্যত রাজনৈতিকদের মধ্যে তুলনামুলক মেধাবি ভুট্টোর টাকা-পয়সা যশ কিছুর অভাব ছিলো না।অক্সফোর্ডের স্কলার, লিংকন ইন ব্যারিষ্টার ,অতি অল্প বয়সে পাকিস্তানের মন্ত্রী হয়ে যাওয়া সবকিছু সম্ভাবনাময় এক জীবনের কথা জানাচ্ছিলো।বাল্যকালে বিয়ে করা ভুট্টো আবার বিয়ে করেন ১৯৫১ সালে ইরানী কুর্দিশ অভিজাত ইস্পাহানী পরিবারে।এই ঘরেই জন্মান বেনজির,মর্তুজা, শাহনেওয়াজ আর সনম ভুট্টো।পুরো একটা সুখী পরিবার।
কারো সময় হলে ওরিয়ানা ফালাচির সাথে ভুট্টোর সাক্ষাতকারটি ধৈর্য ধরে পড়তে পারেন।ভুট্টো অপছন্দনীয় লোক সন্দেহ নাই,কিন্তু আপনি তার ক্ষুরধার মেধার পরিচয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যত বানীর দূরদৃষ্টিটা দেখে অবাক হয়ে যাবেন।দেখবেন তার বেশীরভাগ রাজনৈতিক ভবিষ্যত বানী পরবর্তীতে মিলে গেছে।শুধু সে নিজে যে বেঘোরে মারা পড়বে সেটা সে আন্দাজ করে যেতে পারেনি।
ভুট্টোর সবচেয়ে বড় পাপ ছিলো বাংলাদেশের জনগনের প্রতি। ২৫ মার্চের কালোরাতের গনহত্যার অন্যতম হোতা ভুট্টো, সাথে অন্য কুশীলব যখন ইয়াহিয়া আর টিক্কা খান।একটা গনতান্ত্রিক সুষ্ঠ নির্বাচন মেনে না নেয়ার গোয়ার্তুমি, ক্ষমতা সুষ্ঠভাবে না বুঝিয়ে দিয়ে টালবাহানা, নিরীহ মানুষ মারার ঠান্ডা মাথার প্ল্যান, এগুলো ভুট্টোর নিয়তিকে স্থির করে দিয়েছে।অতি চালাকি ক্ষমতালোভীর মনমানসিকতার দাম তাকে কিস্তিতে কিস্তিতে মেটাতে হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়,ইয়াহিয়ার পতন,ভুট্টোর প্রেসিডেন্ট হওয়া এগুলো খুব দ্রুত ঘটে গেলো। ৬টা বছর কেটে গেলো।ভুট্টোর প্রতি বেসামরিক ,সামরিক প্রশাসনের প্রতিহিংসা এগুলো মেলার সুযোগ হচ্ছিলো না।পাকিস্তান ভাঙ্গার অন্যতম হোতা বলে সামরিক প্রশাসন তাকে সবসময়ই ভেতরে ভেতরে দায়ী করে আসছিলো।সুযোগটা আসে নিয়তির পরিহাস হয়ে,যখন ভুট্টোর পছন্দের সেটা করা সেনাপ্রধান জিয়াউল হক একটা রক্তপাতহীন ক্যু এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্ষমতা হাতে নিয়ে নেয়।ভুট্টো বন্দী হয়ে পড়ে।লারকানার সামন্তপুত্র শেষ কয়টা দিন এমন লাঞ্চনায় কাটায় যেটা ভাষায় অবর্ননীয় হয়ে উঠে।কারাগারে তার বিন্দুমাত্র বিলাসিতার সুযোগ মেলে নাই।পরিবার পরিজন রাজনৈতিক সহকর্মী কারো দেখা সে তার মনমতো পায়নি।দাতের মাড়ির ইনফেকশনের জন্য নিয়মিত লিস্টারিন ইউজ সে করতো।জেল কতৃপক্ষ তাকে এই সামান্য বিলাসিতাও দিতে অপারগতা জানায়।আসে শেষের সেদিন, ভুট্টো কোনমতেই ফাসিকাষ্ঠের দিকে যাচ্ছিলো না।তার এক কথা আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নবাব মুহম্মদ কাসুরীকে হত্যা করি নাই(এটার অভিযোগে তার ফাসি হয়)। তাকে এই আধা অজ্ঞান অসুস্থ অবস্থায় টেনে হিচড়ে ফাসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সালটা হলো ১৯৭৯খ্রীঃ।
ছেলেমেয়েরা সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মর্তুজা ভুট্টো শোকে ক্ষোভে জুলফিকার নামে এক সন্ত্রাসী সংগঠন খুলে।এরা ৮০ দশকে বিমান ছিনতাই করে বিশ্বের নজরে পড়ে।এর পর ভুট্টো পরিবারের উপর যেনো অভিশাপ নেমে আসে।আক্ষরিক অর্থেই ৭০ এর দশকের শেষপ্রান্তে জুলফিকার ভুট্টো নিহত হওয়ার পর থেকে প্রতি এক দশকে ভুট্টো পরিবার একজন করে সদস্য অপঘাতে হারিয়াছে। ৮০ এর দশকে মধ্যভাগে ১৯৮৫ সালে শাহনেওয়াজ ভুট্টো প্যারিসের হোটেলে মৃত অবস্থায় পড়েছিলো।ভাই-বোনেরা এর জন্য শাহনেওয়াজের পশতু স্ত্রীকে বিষ প্রয়োগের দায়ে দায়ী করেন।এলো নব্বইয়ের দশক ,এটা ভুট্টো পরিবারের ভিত্তিমুল নেড়ে দেয়।বেনজিরের মা নুসরাত স্বামীর মৃত্যুর পর বহু ঝড়-ঝাপ্টা সামলে পিপিপিকে নেতৃত্ব দেয়, পাকিস্তানে কিন্তু তাকে গনতন্ত্রের মা আখ্যায়িত করা হয়,তিনি জিয়াউল হক রেজিমের সাথে কঠিন সব লড়াই একাই লড়ে গিয়েছেন।কিন্তু বেনজির দ্বিতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হলে পিপিপির ক্ষমতার ভাগ নিয়ে মা আর ভাই মর্তুজার সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়েন। এলো অভিশাপের দশকের করাল ছোবল। ১৯৯৬ সালে বেনজির প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মর্তুজাকে তার করাচীর বাসভবনের অনতিদূরে আইন-শৃংখলাবাহিনীর হাতে ৬ জন বিশ্বস্ত সঙ্গীসহ ক্রশফায়ারে মরতে হয়।নুসরাত শোকে পারকিনসন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে একেবারে জনসমুক্ষের আড়ালে চলে যান।শুধু ২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর সবাই জানেন যে তিনি মারা গেছেন। এলো ২০০০-২০১০ এর দশক ,এবার বলি বেনজির স্বয়ং। এভাবে ভুট্টো পরিবার প্রতি দশকে একজন হারিয়েছে।
ক্ষমতা ভীষম জিনিস।জনগনের সাথে বেইমানীর ফল কোন রাজনীতিকের জন্য শুভ ফল বয়ে আনে না।

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৭

সুপার বাগ ও জীবানুর রেসিস্টেন্স বৃদ্ধি।

ব্যাপারটা সম্পর্কে আগেও পড়ছি কিন্তু আমরা সাধারনত নিজের ঘাড়ে এসে বিপদ না পড়া পর্যন্ত এলার্ট হওয়ার চিন্তাও করি না।বিষয়টা যথেচ্ছ এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারে জীবানুর রেসিটেন্স বেড়ে যাওয়া নিয়ে।অন্যরে কি উপদেশ দিবো,নিজেই তো মাস্টারি করে কম ঔষধ গিলি না।তো এসবের ফলে কিছু ট্রপিক্যাল অঞ্চলের আবাসিক জীবানু সুপার বাগে পরিনত হচ্ছে।যেমনঃ যক্ষ্মার জীবানু, ম্যালেরিয়েল প্যারাসাইট ,কিছু ভাইরাল জ্বরের জীবানু।দেখেন নাই, এই ১০-১৫ বছর আগেও চিকুনগুনিয়া বা জিকা ভাইরাসের নাম শুনি নাই।ইবোলার নাম শুনি নাই।এখন এগুলা আছে।হয়তো আগেও ছিলো,কিন্তু মিউটেন্ট হয়ে উঠে নাই তখন।
ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নত দেশে যক্ষ্মা ,ম্যালেরিয়ার মতো জীবানু বা প্যারাসাইট এই সেদিনও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে ছিলো।কিন্তু ড্র্যাগ এডিক্ট ও এইচ আই ভি পজিটিভের মতো রোগীদের দেহে এটা প্রবেশ করার পর তাদের চিকিৎসার অবহেলা বা সঠিক সময়ে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা বা অর্ধেক পথে এন্টীবায়োটিক ছেড়ে দেয়ার জন্য এগুলা এখন প্রায় সুপার বাগে রুপান্তরিত হয়ে পড়েছে।এখন এরাই এটার জন্য বিশেষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।কয়দিন আগেই পড়েছিলাম,সুপার গনোরিয়ার সুপার বাগ নিয়ে।
আশ্চর্য যে, একদিন এই ইউরোপ থেকেই পর্তুগীজ ,ডাচ,ইংরেজ আর দিনেমারদের জাহাজে করে জাহাজীদের শরীরে করেই এই সিফিলিস,বিউবোনিক প্লেগ ,গুটিবসন্ত আর গনোরিয়ার মতো গনমান্য রোগের জীবানু এই এশিয়া,আফ্রিকা,পলেনেসিয়ান দ্বীপের মতো দূর দ্বীপে পৌছে গিয়েছিলো।এর আগে এসব অঞ্চলের লোক এসবে আক্রান্ত হন নাই।উদাহরনঃ ১৭৮৫ সালে ক্যাপ্টেন কুক এর জাহাজের মাধ্যমে সিফিলিস ,গনোরিয়া ,প্লেগ আর গুটি বসন্ত তাহিতি দ্বীপ সহ সমগ্র মেলানেশিয়া ,মাইক্রোনেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।এই জাহাজীরা যেখানে গিয়ে লাগাইছে সেখানেই এটা ছড়িয়ে পড়েছে।অন্যদিকে সলোমন দ্বীপ,পাপুয়া নিউগিনির মতো নরখাদক প্রায় অঞ্চলেই আদিবাসীরা যারা আগে কখনো সাদা লোক দেখে নাই ,তারা বিধাতার অমোঘ নির্দেশে সাদাদের নামতেই দিতো না, এমন না কেউ তাদের এসে বুঝিয়ে গিয়েছে ,খবরদার সাদাদের সাথে মিশিশ না,ওরা রোগের জীবানু এনেছে।প্রকৃতিই তাদের বায়ো হ্যাজার্ডের ব্যাপারে আগাম সতর্কতা যেনো শিখিয়েছিলো।তারা কিন্তু এই তাহিতির সাদাদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন আদিবাসীদের থেকে অনেকদিন বেচেছিলো।তাহিতির আদিবাসীরা মাত্র পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে একেবারে ঝাড়ে-বংশে নির্মুল হওয়ার পর্যায়ে এসে যায়।যেহেতু তারাই সাদাদের সাথে আগে মিশেছিলো,তাই মুল্যটা তারাই সবার আগে দেয়।আগে কখনো এসব রোগ তাহিতিতে না থাকার ফলে এসবের বিরুদ্ধে তাদের কোন রেসিস্টেন্স ছিলো না,ফলে এসব রোগ তাদের প্রায় ধবংশ করে ছাড়ে।আদিবাসী লোকসংখ্যা আশংকাজনক হারে হ্রাস পায়।
ক্যাপ্টেন কুকের পর এইচএমএস বাউন্টির বিদ্রোহী জাহাজীদের সাথে একদল তাহিতিয়ান পিটকেয়ার্ন দ্বীপে গিয়ে আস্তানা বাধে। ১৮০৮ এর আগে তাদের কেউ খুজে পায়নি। ১৮০৮ সালে সিল শিকারী জাহাজ টোপাযের ক্যাপ্টেন মেহিউ ফলগার এই মেরুনাইজড দলকে খুজে পায়।এরা তখন নিজেরা নিজেরা খুনোখুনি করে নিজেদেরই সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছিলো।ফলগারই ব্রিটিস এডমিরিল্টিকে এই খুজে পাওয়া দলটির কথা জানায়।ব্রিটিসরা এই বাকি বেচে যাওয়া সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ার কাছে নরফোক আইল্যান্ডে নিয়ে আসে।এই দলটি পিটকেয়ার্ন দ্বীপে বেশ সুস্থ সবল ছিলেন,কিন্তু নরফোক দ্বীপ ছিলো ব্রিটিস পেনাল আইল্যান্ড।এখানে জেলকয়েদীদের সংস্পর্শে এসে পিটকেয়ার্নবাসী আবার সিফিলিস,গনোরিয়া আর গুটি বসন্তে আক্রান্ত হয়।বেচে যাওয়া বাকিরা ব্রিটিসদের কাছে অনুরোধ জানায় তাদের যেনো আবার পিটকেয়ার্ন আইল্যান্ডে নেয়া হয়।তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়।পিটকেয়ার্নের এখনের বাসিন্দারা সেসব বেচে যাওয়াদের বংশধর।
উপরের উদাহরনটা একটা ছোট দ্বীপের ক্ষেত্রে যারা বায়ো হ্যাজার্ডের শিকার হন, তথাকথিত সভ্যদের স্পর্শে এসে।আমাদের এই ১৯ কোটি মানুষ যদি কখনো এমন কোন সুপার বাগের বা সুপার রেসিস্টেন্স জীবানুর কবলে পড়ে আর তা মহামারীতে রুপ নেয় ,তাহলে সেটা হয়তো অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।আগে এইসব সুপার বাগ,গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিশ্বাস করতাম না।মনে হতো ,অনেক পরে এসব হবে।আমরা কি তখন থাকবো? কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিং সত্যিই আমরাই দেখে যাইতেছি।

সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

৮০ এর দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের চেহারাটা কি কারো মনে আছে? প্রবলেম নাই, নেটে গেলেই দেখা যায়।উনি ছিলেন পাঞ্জাবের জলন্ধরের লোক।এই জলন্ধরের, অমৃতসর আর লুধিয়ানার শিখ বা মুসলিমদের চেহারাতে একটা মিল আছে।মানুষের মোঁচ যদি নিচের দিকে নামে তো তাদের মোঁচের দুই কোনা উপরের দিকে উঠানো থাকে, সিধুর মতো। দেখতে খারাপ লাগে না,ম্যানলি একটা ব্যাপার আছে।এদের চোখের লুকিং ও অন্যরকম ,যেনো সুরমা টানা।আশ্চর্য ঐখানের গরুগুলাও এমন সাইট টানা চোখের অধিকারী।মানুষগুলোর মতো বলিষ্ট সেখানের গরুগুলোও।
আসল ব্যাপারে আসি।ঐ জিয়াউল হক আশির দশকের গোড়াতে কট্টর শিখ দলগুলোকে হাত করে ফেলে।শিরোমনি আকালি দল, খালিস্তানপন্থীদের আলাদা শিখ রাজ্য গঠনের জন্য জঙ্গী শিখদের মদদ দিতে থাকে । এমনকি সরাসরি অস্ত্র সাহায্য দিতে থাকে।ইন্দিরার জন্য ১৯৭৭ সালের পরবর্তী সময়টা কঠিন। ৭৫ এর জরুরী অবস্থা জারীর পর ৭৭ এ মোড়ারজী দেশাইয়ের সরকারের হাতে তাকে আর সঞ্জয়কে যথেষ্ট নাকাল হতে হয়। ৮০ সালে নির্বাচনে ফেরার পর যদি সঞ্জয় মারা না যেতো, ইন্দিরা পরবর্তীতে মারাত্বক সব সিদ্ধান্ত নিতেন না।দমদম টাকশাল শিখনেতা জার্নেইল সিং ব্রিন্দালওয়ালে অমৃতসরের স্বর্নমন্দিরে অবস্থান নেয় ।ইন্দিরার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।ভারতীয় আর্মিতে শিখেরা অনেক ভালো ভালো পোষ্টে আছে।উনি তাই জেনারেল অরুন শ্রীধর বৈদ্যকে সর্বাত্বক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।অমৃতসরে বিপুল শিখ নরনারী শিশু নিহত হয়।শিখেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।
চারমাস কেটে যায়।অক্টোবর ৩১,১৯৮৪ সাল।এদিন ব্রিটিস সাংবাদিক পিটার উস্তিনভ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন সাক্ষাতকারের জন্য নির্ধারিত কক্ষে ।তিনি শুনলেন বাজির একটানা ফুটে যাওয়া।দিল্লীতে কয়দিন আগেই দেওয়ালির বাজি পুড়ানোর উৎসব গেছে |তিনি এই কয়েকমাসে এসব বাজি পুড়ানোর শব্দে অভ্যস্ত।তিনি ধারনাও করতে পারেননি যে, শিখ দেহরক্ষীরা ইন্দিরা গান্ধীকে গুলি করেছেন।
ইন্দিরা আরো অনেকের মতোই বেগুন ভাজি পছন্দ করতেন আর সাদা রুটি।কিন্তু সেদিন তিনি টোষ্ট আর মৌসুমী ফল দিয়ে নাস্তা করেছেন।সকালের শুরুতেই তিনি ব্রিটিস সাংবাদিকদের সাক্ষাতকার দিবেন।তিনি তার ঘর থেকে বের হলেন।সাক্ষাতকার রুমের অর্ধেক দূরত্বে এসে তিনি দেহরক্ষী এস আই বিয়ন্ত সিং এর দিকে চেয়ে হালকা স্মিত হাসি দিলেন।কিন্তু বিয়ন্ত সিং তার পিস্তল থেকে ইন্দিরার পেটে গুলি চালিয়ে দিলেন।সাথে সাথেই কনষ্টেবল সতব্রন্ত সিং তার স্টেনগান থেকে বৃষ্টির মতো গুলি চালালেন।অটোমেটিক স্টেনগানের ধাক্কায় ইন্দিরা দূরে ছিটকে গিয়ে পড়লেন, উনি খুব ভারী দেহের অধিকারী ছিলেন না।আততায়ী দুজন একেবারে শান্তভাবে আত্মসমর্পন করলেন।এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার যে, এই ধরনের প্রানঘাতী হামলায় বেশীরভাগ লোক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।কিন্তু অসম্ভব প্রানশক্তির অধিকারী ইন্দিরা ৩১টি গুলি খেয়েও জীবিত ছিলেন। ১ নং সফদর জং রোডে প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমনিতে সবসময় একটা এম্বুলেন্স থাকে, জরুরী প্রয়োজনে। যেহেতু এটা উপমহাদেশ তাই সেই জরুরী মুহুর্তে এম্বুলেন্স ড্রাইভার রাস্তার পাশে চা খেতে ব্যস্ত ছিলো। পুত্রবধু সোনিয়া একটা এম্বেসেডার গাড়িতে করে ইন্দিরাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।উনি সেখানেই প্রানত্যাগ করেন।দুপুর ১ টার আগে তা ভারতবাসীকে জানানো হয়নি।
দুইজন শিখ ইন্দিরাকে হত্যা করেছে, এটা ছড়িয়ে পরার পর ভারতে স্মরনকালের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক শিখ হত্যাকান্ড শুরু হয় ১৮৪৯সালের এংলো-শিখ লড়াইয়ের পর ।চারদিন টানা এই হত্যাকান্ড চলে।অমিতাভের মতো সেলিব্রেটি দূরদর্শনে বলে,খুনকা বদলা খুন( তার বেশীরভাগ সিনেমায় সে এমন এংরিম্যান ইমেজ দেখায়), কংগ্রেসনেতা জগদীশ টাইটলার সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেয়। রাজিব সাংবাদিকদের অনেক আহবান স্বত্তেও মায়ের মৃত্যুশোকে বলে, জাব কোই বাড়া দ্রাক্ষা গিড়তা হ্যায়, ধরতী হিলতা হ্যায়। বড় গাছটা উপড়ে পড়লে ধরতী কাঁপবেই। শিখ রাস্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিং নিজের জাতের এই ভয়াবহ অসহায় অবস্থা দেখে পদত্যাগ করার জন্য খুশবন্ত সিং এর মতামত চায়। খুশবন্ত জানান, এতে এখন আর কিছু আসে যায় না।তিনি নিজে তার রাস্ট্রীয় খেতাব ফেরত দেন।
চতুর্থদিন রাজিব শোক ভুলে রাস্ট্রীয় টিভিতে জানান, আপনারা শান্ত হন, আর রক্তপাত নয়।বিশেষ বাহিনী দক্ষিন থেকে ডেপ্লোয় করা হয়।কারন কোন শিখ রেজিমেন্ট যেনো আবার এর মধ্যে ডেপ্লোয় না হয়, এতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।কারন অত্যান্ত স্বাভাবিক, নিজের জাতের ভয়াবহ পরিস্থিতি তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রনে থাকার ব্যাপারটাকে অসম্ভব করে ফেলবে।
শেষকথা, স্বর্নমন্দিরে অভিযান চালানো জেনারেল বৈদ্যও ১৯৮৬ সালে পুনেতে আততায়ীর হাতে নিহত হন।

৩১ অক্টোবর,১৯৮৪।

৩১ অক্টোবর,১৯৮৪ । ৩১ টি বুলেটে ইন্দিরা গান্ধী নিস্তব্দ হয়ে যান।তার সর্ষে রঙের শাড়ী রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। মাত্র তিনদিন আগে উনি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তার দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং কে দেখিয়ে বলেছিলেন , ও থাকতে আমার কাছে মৃত্যু আসতে পারবে না।কি নির্মম রসিকতা! বিয়ন্ত সিং এই তাকে দুই হাত জোর করে নমস্কার জানানোর মুহুর্তে প্রথম গুলিটা ছোড়ে। এর পর সতবন্ত সিং যোগ দেয়।
৫ জুন,১৯৮৪ সাল, এ দিন স্বর্ন মন্দিরে অভিযান চালানোর পরই ইন্দিরার ব্যক্তিগত সহাকারী আর কে ধাওয়ান জানান, ইন্দিরা অত্যান্ত মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছেন।তিনি কয়েকদিন পর তার কাছের মানুষদের জানান, তার ভেতরে যেনো পচন ধরা শুরু হয়েছে। এই প্রথম তিনি সবাইকে জানান ,তার উপর হামলা হতে পারে।তিনি আশংকা করতেন ,সেটা বেশী করে হতে পারে রাহুল-প্রিয়াংকাকে স্কুল থেকে অপহরনের মাধ্যমে। এর মধ্যেই তার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা তাকে শিখ দেহরক্ষী বদলানোর পরামর্শ দেন।তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন।তিনি জানান ,তিনি সারাজীবন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছেন।শিখেদের সরালে সেটা তাদের প্রতি অপমানকর বলে গন্য হবে।
প্রথম গুলীর পরই ধাওয়ান চীৎকার করে সরে যান।সোনিয়া একা রান্নাঘরে ছিলেন।আজ সকালে রাহুল আর প্রিয়াঙ্কাকে স্কুলে যাওয়ার সময় ইন্দিরা অন্যান্য দিনের থেকে অনেকটা বেশীক্ষন বুকে চেপে ধরে রাখেন।এরপর তারা স্কুলে চলে যায়। এভাবে একটানা স্টেন গানের আওয়াজ শুনে প্রথমেই সোনিয়ার মনে দেওয়ালি উতসবের বাজির কথা মনে পড়ে।হঠাত আবার মনে আসে দেওয়ালি তো কয়দিন আগেই চলে গেছে। সোনিয়া হঠাত করে সব বুঝে যান। মা মা করে চীৎকার করে তিনি ইন্দিরার কাছে যান।সোনিয়াই নিজে এম্বেসেডার গাড়িতে করে শাশুড়িকে অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইন্সটিটিউটে নিয়ে যান।তিনি সেখানেই মারা যান।চেস্টা করা হয় আপাতত জরুরী কিছু সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত মৃত্যু সংবাদ গোপন থাক। রাজিব কাছে নেই।তিনি পশ্চিম বঙ্গের কোলাঘাটে আজকের রাস্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি আর সিধার্থ শংকর রায়ের সাথে আছেন।তাকে দ্রুত প্রয়োজন।
প্রনব মুখার্জি অত্যান্ত ভেঙ্গে পড়েছেন।তাকে রাজিবের সন্মুখীন করালে উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্ট হওয়ার থেকে না করানোই ভালো। কারন সিধার্থ শংকর রায় জানিয়েছেন রাজিবকে, তার মা গুরুতর আহত হয়ে মেডিকেলে আছেন। তাকে এখনি দিল্লী যেতে হবে। সেই ফ্লাইট রাজিব নিজে চালিয়ে দিল্লী আসেন।কিন্তু রেডিও চালু করার সাথে সাথে রাজিব জেনে যান তার মা নিহত হয়েছেন।একিই ফ্লাইটে প্রনব বাবু আর সিধার্থ রায়ও আসেন। রাজিব সোনিয়াকে দেখে কেদে ফেলেন। ঐ অবস্থাতেই সোনিয়া রাজিবকে জানান, সে যেনো কোনমতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব না নেন। রাজিব জানতে চায়, রাহুল প্রিয়াঙ্কা কোথায়?নিরাপত্তারক্ষীরা গিয়ে দেখে যাদের চিন্তায় ইন্দিরা গান্ধী সর্বক্ষম অস্থির থাকতেন,তারা সম্পুর্ন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় স্কুলে দাঁড়িয়ে আছে।কোন নিরাপত্তারক্ষী আশে পাশে নেই।স্কুলের সহপাঠীরা এই দুই শোকে শোকাহত হতবুদ্ধ ভাই-বোনকে জানাচ্ছে ,তাদের দাদীমা আর নেই। সেখান থেকেই তাদের অমিতাভের মা তেজি বচ্চনের বাসায় নিরাপত্তা সহকারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।সেটাই ছিলো রাহুল আর প্রিয়াঙ্কার শেষ স্কুলের দিন।এরা এর পর বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের অধীনে চলে যান।
আর দিল্লীতে দুপুরে ইন্দিরার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পরার পর শুরু হলো ব্যাপক শিখ নিধন ।প্রথম দিনেই ২৫০০ শিখ শুধু দিল্লীতে নিহত হয়।পরবর্তী তিনদিনে সে সংখ্যা ভয়ংকর অবস্থায় পৌছে যায়। পারস্যের আফ্রাসিয়াব সম্রাট নাদিরের ভয়াবহ দিল্লী শেকিং এর পর এটাই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হত্যাকান্ড।

সম্রাট আকবর ও মুসলমানী প্রসঙ্গ।

ইতিহাসের এইদিনে এই ভ্যালেন্টাইন ডে তে ১৪ ফেব্রুয়ারী,১৫৫৬ খ্রীঃ সম্রাট আকবর ১৪ বছর বয়সে দিল্লীর সিংহাসনে আসীন হন। ভ্যালেন্টাইন ডে তে সম্র...